জীবন গড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এসএসসির পরপরই তাই সময় থাকতে সচেতন হন!!! নয়তো পরে পস্তাবেন।

0
306

এটি আমার সর্বপ্রথম টিউন তাই কোনও ভুল ত্রুটি হলে দয়া করে ক্ষমা করবেন।

এসএসসি পরীক্ষা আমরা যে সময়ে দিই ঠিক তার এক মাস আগে থেকেই এইচএসসির বছর শুরু হয়ে যায়। কিন্তু সেটা আমরা কেউই কখনও সহজে বুঝতে পারি না। এসএসসি পরীক্ষা দেবার পর যে তিন মাস সময়থাকে সেই সময়ে আমরা এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করি এটা সেটা করে বেড়াই কেউ ইংরেজি ভাষা শিখি, কেউ বা কম্পিউটার শিখি, কেউ বা আবার কোনো ছোট খাটো বিষয়ের উপর কোর্স কমপ্লিট করি। হ্যা এগুলো অবশ্যই করা প্রয়োজন কেননা ভবিষ্যত জীবনে এগুলোর দরকার অবশ্যই পড়ে। তাই এগুলো করতে কোনো মানা নেই এগুলো অবশ্যই করা প্রয়োজন। কিন্তু এত কিছুর ভেতর কি আমরা কোনো সময়ও এইচএসসির চিন্তাটুকু কিঞ্চিত পরিমাণে করে থাকি অামার মনে হয় খুবই কম পরিমানে ভালো ছাত্রই এটা করে থাকে। যারা ভালো ছাত্র তারা তো তা অবশ্যই করবে। তাই সর্বপ্রথম আমি এই জিনিসটিই অবগত করতে চাই যে এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দেবার পর বেশি সময় নষ্ট না করে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। কেননা পরে আপনি আপনার সিলেবাসের তুলনায় সময়ের সাথে পেরে উঠবেন না। স্বাভাবিক নিয়মে পড়ালেখার রুটিন অনুযায়ী এইচএসসির প্রস্তুতি শুরু করে দিন। মনে রাখবেন এসএসসির তুলনায় এইচএসসির সময় একেবারেই কম পুরো ২ বছরও আপনি কিন্তু পাবেন না যদি না আপনি এসএসসির রেজাল্টের পরপরই পড়ালেখা শুরু করে না দেন।এসএসসি রেজাল্ট যাই হোক না কেন তা নিয়ে কখনই টেনশন করবেন না মনে আপনার ক্যারিযার গড়ার জন্য এসএসসির রেজাল্টের তুলনায় এইচএসসির রেজাল্টের ভূমিকা অনেক অনেক বেশি তো এখনও কিছু শেষ হয়ে যায়নি তাই আজই সময় থাকতে সচেতন হন নয়তো পরে পস্তাবেন।
তো এইচএসসির প্রস্তুতি নিতে হলে আপনাকে সর্বপ্রথম এইচএসসির পাঠ্যক্রম এবং বিষয় সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে।
এইচএসসির মোট বিষয় ১৩ টি ১ম বর্ষ এবং ২য় বর্ষ মিলিয়ে।
আবশ্যকি বিষয়সমূহঃ বাংলা ১ম, বাংলা ২য়, ইংরেজি ১ম, ইংরেজি ২য় এবং তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি(আইসিটি)
এরপর যার যার বিভাগের ৩ টি বিষয় এবং চতুর্থ বিষয়ের প্রত্যকটির ২ টি করে পার্ট।
উদাহরণ স্বরুপ বিজ্ঞান বিভাগের ৩ টি বিষয় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং ৪র্থ বিষয় উচ্চতর গণিত এখানে উল্লেখ্য যে ৪র্থ বিষয় হিসেবে জীববিজ্ঞানও নেওয়া যাবে।
এই প্রত্যকটা বিষয়েরই ২ টা করে পার্ট আছে এর মধ্যে প্রথম পার্টটা ১ম বর্ষে এবং ২য় পার্টটা ২য় বর্ষে শেষ করানো হয়।
আশা করি বিষয় সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পেয়েছেন।
তো এখন আপনার কাজ হবে এইচএসসির ১ম বর্ষের বই গুলো আপনার বিভাগ অনুযায়ী সংগ্রহ করা  লাইব্রেরিতে খোজ নিবেন বা বড় ভাই-বোনদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। বই গুলো সংগ্রহ করে আপনি স্বাভাবিক নিয়মে পড়লেখা শুরু করে দিন।

সময় নষ্ট করবেন না। সময় কে কোনও ভাবেই অবহেলা করবেন না।বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আপনি যদি রেজাল্টের পর পড়ালেখা শুরু না করেন এবং কলেজের ১ম বর্ষে রীতিমত ফাঁকি দেন তাহলে আপনি আপনার জীবনের সবথেকে বড় ভুলটি করবেন।তাই সময় থাকতে সচেতন হন নয়তো আলসেমি অবহেলা করে যখন বছর চলে যাবে তখন বুঝবেন যে কত ধানে কত চাল!!!!!

তো এটা করার পাশাপাশি আপনাকে আরেকটা পরিকল্পনা করতে হবে যে আপনি জীবনে কি হতে চান?? কারণ এখনই সেই উপযুক্ত সময় চলে এসেছে।
ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, আইনজীবি ইত্যাদি আরো অনেক অনেক পেশাই আছে আপনাকে বেছে নিতে হবে আপনি কোনটি হতে চান, কোনটিতে আপনার আগ্রহ বেশী অথবা সেরা কোন পাবলিক ভার্সিটিতে আপনি আপনার সবচেয়ে পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়তে চান?? এখন তো সবকিছু গুগল থেকেই জানা সম্ভব।
যদি আপনি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজেকে দেখতে চান তাহলে আপনাকে উচ্চমাধ্যমিকে উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়নের উপর গুরুত্ব দিতে হবে সবচেয়ে বেশি আর যদি আপনি নিজেকে ডাক্তার হিসেবে দেখতে চান তাহলে পদার্থ রসায়নের পাশাপাশি জীববিজ্ঞানের উপর গুরুত্ব বেশি দিতে তবে অবশ্যই উচ্চতর গণিতকে ভুলে যাবেন না কারণ উচ্চতর গণিত ছাড়া আপনি পদার্থ, রসায়ন ভালোভাবে বুঝবেন না।
তো এখন সব সিদ্ধান্তই আপনার নিজের আমি এখানে শুধুমাত্র আপনার জীবন গড়ার জন্য একটি ছোট্ট ধাপের সাধারণ দিক নির্দেশনা দিলাম মাত্র। আপনি এসএসসির রেজাল্টের পর সময় নষ্ট না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এইচএসসির প্রস্তুতি নিয়ে নিন ততই আপনার জন্য অনেক ভালো হবে।
ধন্যবাদ এতক্ষন ধৈর্য্য ধরে পড়বার জন্য। আশা করি এই সাধারন লেখাটুকু কিছুটা হলেও আপনার কাজ লাগতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here