যেকোন ওয়েব সাইটকে মূহুর্তে বানিয়ে ফেলুন ফুল ফাংশনাল অ্যান্ড্রোয়েড অ্যাপ! ফেসবুক, টুইটার, মেসেঞ্জার সহ বিশাল সাইজের অ্যাপ থেকে এবার চির মুক্তি!

1
325
————————–— بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ————————–—

সুপ্রিয়  কমিউনিটি, সবাইকে আমার আন্তরিক সালাম এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি যেকোনো ওয়েব সাইটকে ফুল ফাংশনাল অ্যান্ড্রোয়েড অ্যাপ্লিকেশনে রূপান্তরের সুপার হট টিপস নিয়ে আমার আজকের টিউন।

আজ দিনের শুরুটাই হয়েছে কেমন মেঘলা আবহাওয়া দিয়ে। খানিক পরপর বৃষ্টির আবহ দিনটাকে কেমন ঘরমুখো করে ফেলেছে। ভার্সিটির হল এ শুয়ে শুয়ে এমন দিনে রবীন্দ্র সংগীত শুনছিলাম, “আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে; জানি নে, জানি নে; কিছুতেই কেন যে মন লাগে না। এই চঞ্চল সজল পবন-বেগে, উদ্ভ্রান্ত মেঘে মন চায়, মন চায় ঐ বলাকার পথখানি নিতে চিনে”। সত্যিকার অর্থেই মনটা কেমন উদ্ভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছিলো। হঠাৎ মনে হলো, টেকটিউনস কমিউনিটির সাথে অনেকদিন কোন যোগাযোগ নেই। এরকম বাদলা দিনে হয়ে যাক একটা টিউন। যেই ভাবা সেই কাজ, বসে গেলাম টিউন লিখতে। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে টিউনটি দাড়িয়ে গেলো। জানিনা টিউনটি স্ট্যান্ডার্ড কিনা, তবে টেকটিউনস কমিউনিটি লেখাটা পড়বে এটা আমার সব সময়ের বিশ্বাস। বহুদিন পরে টিউন লিখতে বসে পটভূমি নিয়ে অনেক কথায় বলে ফেললাম। এবার টিউনের মূল আলোচনায় আসি।

বৃষ্টির নগরীতে, বৃষ্টিস্নাত দিন | অমর একুশে – জাবি

অ্যান্ড্রোয়েড ফোনগুলোর ব্যাটারি চার্জ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। দেখা যায় যারা একটু অতিরিক্ত ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেন তাদের ফোনের চার্জ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এর পেছনে কারণ হলো ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনগুলোর অধিকাংশই ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে রান করে। ফলে আপনি সেই অ্যাপ্লিকেশন চালান কিংবা না চালান সে আপনার ফোনে রান করবেই এবং ব্যাটারি এবং র‍্যাম এর বারোটা বাজাবে। ফেসবুক, টুইটার, মেসেঞ্জার সহ অন্যান্য অ্যাপগুলোর কথা একবার ভেবে দেখুন সেগুলোর আসলে কী করে। এমন যদি হতো যে ফেসবুক, টুইটার কিংবা মেসেঞ্জারের মতো ওয়েব সাইটগুলোকে ফুল ফাংশনাল ওয়েব অ্যাপ হিসাবে ব্যবহার করা যেতো যাতে সেটা ব্যাকগ্রাউন্ডে রান করতে না পারে তাহলে কেমন হতো? আমি আজ সে বিষয়েই কথা বলবো। তো চলুন তাহলে শুরু করি।

ওয়েব সাইট টু অ্যান্ড্রোয়েড অ্যাপ কনভার্সন

আজ আমরা এমন একটা অ্যান্ড্রোয়েড অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আলোচনা করবো যেটা যেকোনো ওয়েব সাইটকে একটা ফুল ফাংশনাল অ্যান্ড্রোয়েড অ্যাপ (ভার্চুয়াল) হিসাবে কনভার্ট করে দিবে। পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না? তাহলে চলুন একটু বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। তার আগে অ্যাপ্লিকেশনটির নামটা জেনে নেওয়া যাক। বিশেষ অ্যাপটির নাম Hermit (নির্জন বাসী ব্যক্তি)। কাজের সাথে এর নামের কী মিল সেটা অবশ্য বুঝতে পারিনি।

Hermit – কীভাবে কাজ করবে?

সত্যিকার অর্থে হারমিট হলো একটি আধুনিক ওয়েব ব্রাউজার। আমি মনে হয় বছর খানেক আগে একটি টিউনে দেখিয়েছিলাম, গুগল ক্রোম ব্যবহার করে পিসিতে কীভাবে যেকোনো ওয়েব সাইটকে একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন হিসাবে ব্যবহার করা যায়। হারমিট সফটওয়্যারটি ঠিক একই ভাবে কাজ করে। তবে গুগল ক্রোম এর সাথে এর প্রধান পার্থক্য হলো এটি ওয়েব পেইজকে একটি স্বতন্ত্র অ্যাপ্লিকেশন হিসাবে ব্যবহারের সুযোগ দেয়। যেখানে গুগল ক্রোম ওয়েব পেইজকে একটি ট্যাব হিসাবে ব্যবহার করতে দেয়।

আপনি যখন হারমিট ব্যবহার করবেন তখন এটা আপনার কাঙ্ক্ষিত ওয়েব পেইজকে একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে কনভার্ট করে দিবে যা আইকন হিসাবে আপনার ফোনের হোম স্ক্রিনে থাকবে এবং যেকোনো সময় সেটাকে ট্যাপ করে আসল অ্যাপ্লিকেশনের মতো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু যখন ব্যবহার করবেন না তখন এটা ব্যাকগ্রাউন্ডে প্লে হবে না। ফলে আপনার ব্যাটারি এবং র‍্যাম এর উপর বাড়তি কোন চাপ পড়বে না।

Hermit – ডাউনলোড এবং ব্যবহার বিধি

অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করা খুবই সহজ। আমি না দেখিয়ে দিলেও আপনারা হয়তো পারতেন। তবুও নতুনদের জন্য আমি বিস্তারিত বলছি। তবে তার আগে এই অসাধারণ অ্যাপ্লিকেশনটি গুগল প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড করে নিন। এটা একটা ফ্রি ভার্সন, এর প্রিমিয়াম ভার্সনটা আমি অনেক খুঁজেও বের করতে পারলাম না। যা আছে সেগুলো আসলে কাজ করে না। যাহোক, দুধের স্বাদ আপাততো ঘুলে মিটিয়ে নিন।

ডাউনলোড Hermit | Google Play Store | Size 1.9MB

ব্যবহার বিধি

  • প্রথমে অ্যাপ্লিকেশনটি ওপেন করুন। তারপর নিচের চিত্রের মতো করে এর মেনু অপশনে ট্যাপ করে Create অপশনে যান।

  • এখন যে ওয়েব পেইজটিকে ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে কনভার্ট করতে চান তার লিঙ্ক লিখুন। যেমন আমি এখানে লিখেছি আমার অন্যতম ফেভারিট ওয়েব সাইট Makeuseof এর নাম। আপনারা চাইলে ফেইসবুক, টুইটার, মেসেঞ্জার যা খুশি লিখতে পারেন। কাজ শেষে নিচের প্লাস বাটনটিতে ট্যাপ করলেই হোম স্ক্রিনে তার আইকন চলে আসবে।

  • যে ওয়েব পেইজগুলোকে আপনারা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন হিসাবে ব্যবহার করতে চান সেগুলো হোম স্ক্রিনে থাকবে। এবং সত্যিকার অ্যাপ্লিকেশনের মতোই ব্যবহার করা যাবে।

  • যেকোনো ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ওপেন করলেই সেগুলো কাস্টমাইজেশন এর করার অপশন পাবেন। যেমন অ্যাপ্লিকেশনটি ফুল স্ক্রিন চলবে কিনা, এড ব্লক করবেন কিনা, ইমেজ লোড হবে কিনা, স্ক্রল টু টপ থাকবে কিনা ইত্যাদি।

আশা করছি কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়ায় অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এর জন্য বাড়তি কিছু রিকোয়ারমেন্ট আছে। অ্যান্ড্রোয়েড ৫.০ ললিপপ এবং এর পরবর্তী ভার্সনগুলো ছাড়া এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করা যাবে না। আমার একটা ৪.৪ কিটক্যাট ফোনে এটা ভালো কাজ করেনি। সুতরাং ললিপপের চেয়ে আগের ভার্সনগুলোতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করবেন। এছাড়া কেউ অ্যাপ্লিকেশনটির প্রিমিয়াম ভার্সন পেয়ে থাকলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here