রোহিঙ্গাদের ছয় মাসে ২০ কোটি ডলার প্রয়োজন:জাতিসংঘ

0
386
In this Sept. 18, 2013 photo, Muslim children learn the Quran by rote at Rohingya Village Madrassa in The’ Chaung Village on the outskirts of Sittwe in Rakhine state, Myanmar. A year after Buddhist mobs forced almost all members of the minority Rohingya Muslim community from Sittwe, creating a state-sanctioned sectarian divide, thousands of children while away their long, empty days in dusty displacement camps. (AP Photo/Gemunu Amarasinghe)
রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য আগামী ছয় মাসে ২০ কোটি মার্কিন ডলার পরিমাণ সহায়তা প্রয়োজন। গতকাল শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বাংলাদেশে নিয়োজিত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ডি. ওয়াটকিনস নতুন এ হিসাব জানান। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার সহায়তার আবেদন করেছিল জাতিসংঘ।

 

ওয়াটকিনস বলেন, ২৫ আগস্টের পর আশ্রয় নেওয়া চার লাখ ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ও সহায়তাকারী এজেন্সিগুলো হিমশিম খাচ্ছে। এ মুহূর্তে আমরা ২০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রয়োজন বলে হিসাব করেছি। এ অঙ্কটা নিশ্চিত নয়, হাতে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে একটি ধারণাকৃত হিসাব এটি। জরুরি প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে আমরা এ হিসাব করেছি এবং এ মুহূর্তে আমরা জানি পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে। এছাড়া এখনও বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গারা।

 

গত ২৫ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের হামলার পর মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অভিযান জোরদার হয়। তবে জাতিসংঘের জাতিগত নিধনযজ্ঞের অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। ওয়াটকিনস বলেন, ২৫ আগস্টের পর   থেকে যে হারে রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে এসেছে সেটা ৯০’ এর দশকে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জাতিগত নিধনযজ্ঞে পালানোর চেয়ে বেশি। অল্প সময়ের ব্যবধানে এটা অনেক বড় সংখ্যা।

 

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম ত্রাণ সরবরাহকারী এজেন্সির কাজকে সমস্যায় ফেলেছে। রাস্তঘাট এখন খানাখন্দে ভরে গেছে। নতুন রাস্তা নির্মাণে জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছিল। তিনি বলেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি। যে কারণে এখনই বলা সম্ভব নয় যে, নতুন করে আরো কত মানুষ পালিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে এবং কত সময় থাকবে। তিনি বলেন, আমরা এই কার্যক্রম দশ বছরব্যাপী চালানোর পরিকল্পনা করতে চাই না। কারণ আমরা আশা জিইয়ে রাখতে চাই যে, আলোচনার মাধ্যমে এসব মানুষকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে একটি উপায় বেরিয়ে আসবে।

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)