আইফোন এক্স- এর কিছু সুবিধাঃঅ-সুবিধা…

0
848

 

অ্যাপল বা স্যামসাঙের মতো বিশ্বসেরা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলো নতুন মডেলের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস বাজারে ছাড়লেই সাড়া  পড়ে যায় টেকি দুনিয়ায়, গ্যাজেট ফ্রীকদের কাছে তো মোটামুটি উৎসবের সময় এসব দিনগুলো। গত মঙ্গলবার অ্যাপল তাদের আইফোন সিরিজের নতুন সংযোজন আইফোন এক্স উন্মুক্ত করেছে, ৫.৮ ইঞ্চি ডিসপ্লে সংযুক্ত এই স্মার্টফোনটি ব্যবহারকারীদের জন্যে বাজারে ছাড়া হবে নভেম্বরে। বাংলাদেশেও আইফোন ইউজারদের সংখ্যা অনেক, সময়ের সঙ্গে বাড়ছে মানুষের সামর্থ্য, সেইসঙ্গে চাহিদাও। আইফোন এক্স দেশের বাজারে এলে অনেকেই আগ্রহী হবেন, এটা ধ্রুব সত্যি কথা। সময় বাকী আছে এখনও, এরমধ্যে চলুন জেনে নেয়া যাক আইফোন সিরিজের সর্বশেষ এই ডিভাইসটির পাঁচটি ভালো দিক, সেইসঙ্গে পাঁচটি মন্দ দিকও।

ভালো দিকগুলো-

#১- গর্জিয়াস অপটিক এলইডি ডিসপ্লে- রেটিনা ছেড়ে অ্যাপল এবার ঘর বানিয়েছে অপটিক এলইডি ডিসপ্লে দিয়ে। ৫.৮ ইঞ্চি সাইজের এই ডিসপ্লেটি’কে বলা হচ্ছে এযাবতকালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্মার্টফোন ডিসপ্লে। এতকাল অন্যরা আইফোনের বিভিন্ন দিক এবং ডিজাইন নকল করলেও, অ্যাপল নিজেই এবার অনুসরণের পথে হেঁটেছে। শাওমীর মি মিক্স বা স্যামসাঙের এস এইটের মতো প্রায় বেজেললেস ডিসপ্লে ডিজাইন নিয়ে বাজারে আসছে আইফোন এক্স। মোবাইলের পুরোটা জুড়েই থাকছে ডিসপ্লে, দারুণ শার্প এই ডিসপ্লেটি’র রেজুলেশন ২৪৩৬X১১২৫, প্রতি ইঞ্চিতে পিক্সেলের ঘনত্ব ৪৫৮ পিপিআই।

#২- আরো চমৎকার ফ্রন্ট ক্যামেরা- আইফোনের ক্যামেরা নিয়ে খুব কম সময়েই প্রশ্ন উঠেছে। আপনার চেহারার ভঙ্গিকে ইমোজি বানিয়ে ফেলা বা ফেস ডিটেকশানের মাধ্যমে স্ক্যান করে ফোন আনলক করার প্রযুক্তি আছে এতে। সাত মেগাপিক্সেলের এই ক্যামেরাটি আইফোনের আগের যেকোন ভার্সনের ফ্রন্ট ক্যামেরার চেয়ে সবদিক থেকেই উন্নত এবং আধুনিক। সেলফি লাভারদের জন্যে বড়সড় সুখবর এটা!

#৩- নিজের চেহারার আদলে ‘অ্যানিমোজি’ বানিয়ে ব্যবহারের সুবিধা- ফেসবুক মেসেঞ্জার/হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপ বা সাটগুলোতে চ্যাট করার সময় আমরা প্রচুর ইমোজি ব্যবহার করে থাকি। ইমোজি ছাড়া চ্যাটিং ব্যপারটাই যেন অসমাপ্ত থেকে যায়, প্রাণহীন রয়ে যায়। কেমন হয়, যদি ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের দেয়া এসব কাস্টোমাইজ ইমোজির বদলে নিজের হাসি বা ভেংচিকেই ইমোজি বানিয়ে পাঠানো যায় বন্ধুদের? আইফোন এক্স নিয়ে আসছে সেই সুবিধাই। এই স্মার্টফোনের ফ্রন্ট ক্যামেরায় থাকা থ্রিডি ম্যাপিং সেন্সরের মাধ্যমে আপনার নিজের মুখভঙ্গিকে বানাতে পারবেন ইমোজি, আর সেটিকেই অ্যাপল বলছে অ্যানিমোজি।

অ্যাপল, আইফোন, আইফোন এইট, আইফোন সেভেন, আইফোন এক্স

#৪- ৫.৮ ইঞ্চির স্ক্রীন; বাস্তবতার কাছাকাছি- অন্যান্য আইফোন ডিভাইসগুলোর সঙ্গে আইফোন এক্সে’র বড় পার্থক্যটা ডিসপ্লেতে। বড় স্ক্রীনসাইজ, সেইসঙ্গে আরো বেশী শার্প, অনেক বেশী ডিটেইলস পাওয়া যাবে আইফোন এক্সে। ডিসপ্লের কালার গ্রেডিং দারুণ বলেই রায় দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অ্যাপল এবার হেঁটেছে প্রায় বেজেললেস ডিসপ্লে’র পথে, প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান যেটিকে ‘এজ টু এজ’ ডিসপ্লে বলছে। আইফোন এক্সে মুভি বা অন্যান্য ভিডিও দেখার অনুভূতিটা অবশ্যই বিশেষ কিছুই হবে।

#৫- ফেস আইডি; ভবিষ্যতের হাতছানি- পাসওয়ার্ড/পিনের পর এসেছিল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, এবার অ্যাপল নিয়ে এসেছে ফেস আইডি প্রোটেকশন। ব্যবহারকারীর মুখ দেখে আনলক হবে ফোন, আর এই কাজটি করবে ফ্রন্ট ক্যামেরা আর তার সঙ্গে থাকা সেন্সরগুলো। তবে অপটিক এলইডি ডিসপ্লে’র নীচে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার রাখতে পারতো অ্যাপল- এমনটাও বলেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। ফেস আইডি কতটা সিকিউরিটি দেবে ইউজারকে, বা এটা কতটা ইউজার ফ্রেন্ডলি হবে সেড়া আইফোন এক্স বাজারে এলেই বলা যাবে।

বাজে দিকগুলো-

#১- আকাশচুম্বী দাম- আইফোন সেভেন বের হবার পরে সোশ্যাল সাইটগুলোতে কিডনী বিক্রির কৌতুক খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। আইফোন সেভেন কিনতে হলে মধ্যবিত্ত বা গরিব মানুষকে একটা কিডনী বিক্রি করতেই হবে, এমনটাই ছিল সেই কৌতুকের ভাষ্য। আইফোন এক্স ছাড়িয়ে যাবে আইফোন সেভেনকে- এটা অনুমিতই ছিল। তবে যা দাম আইফোন এক্সের, তাতে দুটো কিডনীর বিনিময়েও পাওয়া যাবে কিনা এই জিনিস, সন্দেহ আছে তাতে। বত্রিশ গিগা মেমোরি ভার্সনের দাম এক হাজার ডলার, বাংলাদেশী টাকায় প্রায় বিরাশি হাজার টাকা। আর ২৫৬ গিগা ভার্সনের দাম প্রায় বারোশো ডলার, টাকার অঙ্কে সেটা ছাড়িয়ে যাবে লাখের সীমানা।

#২- টাচ সিকিউরিটি সিস্টেমের বিদায়ঘন্টা- অনেকবছর ধরেই টাচ আইডি হয়ে ছিল দারুণ এক সিকিউরিটি সিস্টেম হয়ে, আস্তাও অর্জন করে নিয়েছিল দুনিয়াজোড়া শতকোটি ব্যবহারকারীর। তবে এবার বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে সেই ব্যবস্থার। অনেকেই অনেক সময় পরিকল্পনা করেছে ফেস ডিটেকশান সিকিউরিটি সিস্টেমের, তবে অ্যাপলই সেটা প্রথম বাজারে নিয়ে এলো। এরপর অন্যরাও হাঁটবে এই পথে। আর তাই বলা যায়, টাচ সিকিউরিটি সিস্টেমের আয়ু খুব বেশীদিন নেই।

অ্যাপল, আইফোন, আইফোন এইট, আইফোন সেভেন, আইফোন এক্স

#৩- এক হাতে ব্যবহারের অসুবিধা- আইফোন এক্সে থাকছে না কোন হোমবাটন। আইওএস ১১ আপডেট নিয়ে বাজারে আসছে এটি। অ্যাপ ক্লোজ করতে চাইলে ডিসপ্লে’র নীচের অংশ থেকে সোয়াইপ করতে হবে, সিরি ব্যবহার কিংবা স্ক্রীনশট নেয়ার মতো ব্যপারগুলোও হয়ে গেছে আগের চেয়ে ঝামেলার। আর তাই এক হাতে আইফোন এক্স ব্যবহার করতে অসুবিধেই হবার কথা। ইউজার ইন্টারফেসও প্রথমদিকে ঝামেলায় ফেলতে পারে ব্যবহারকারিদের।

#৪- দাম বেড়েছে অ্যাপল কেয়ারের- ১২৯ ডলার থেকে অ্যাপলের নতুন স্মার্টফোনের বিপণন পরবর্তী সার্ভিসের দাম বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, এখন সেটির মূল্য ১৯৯ ডলার। হাজারখানেক ডলারের একটা মোবাইলের সার্ভিসিং করাতেই যদি দুইশো ডলার খরচা লাগে, সেটা নতুন ক্রেতাদের আকর্ষণ করার কথা নয় সেভাবে।

#৫- চীপ আর ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা আছে আইফোন এইটেও- কাছাকাছি সময়ে বাজারে আসছে আইফোন এইট এবং আইফোন এক্স। অ্যাপলের নতুন এবং আকর্ষণীয় উদ্ভাবন A-11 বায়োনিক চীপ আর তারবিহীন ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা, সেটি আছে প্রায় দুইশো ডলার কমদামী আইফোন এইটেও। ব্যবহারকারীরা তাই খরচ বাঁচাতে ঝুঁকতে পারেন আইফোন এইটের দিকে। এটাকে অ্যাপলের বোকামী হিসেবেই দেখছেন অনেক টেক বিশেষজ্ঞ।

#দ্যা অ্যাভারেজ ডট কম অবলম্বনে।

Visit for Learn, itdoctor24.com

Thanks.

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)