‘লাইক’ নিয়ে ভয়ে লাইকের জনক -জাস্টিন রোজেনসটিন

0
496

এখন ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানাতে ‘লাইক’ না হলে কি চলে? কিন্তু ফেসবুকে এই ‘লাইক’ এখন দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাইকের উদ্ভাবক ‘লাইক’ নিয়ে রীতিমতো ভয়ে আছেন।

জাস্টিন রোজেনসটিন নামের মার্কিন প্রকৌশলী ২০০৭ সালে ফেসবুকে কাজ করার সময় অসাধারণ ফিচার ‘লাইক’ তৈরি করেছিলেন। প্রায় এক দশক পরে এসে তিনি লাইকের ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছেন। এমনকি আসক্তির ভয়ে নিজেই তাঁর মোবাইল থেকে ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশনটি (লাইক) সরিয়ে ফেলেছেন।

রোজেনসটিন মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে মানুষের ওপর বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন নানাভাবে মানসিক প্রভাব ফেলছে। এই ভয় তাঁর মনে বাসা বেঁধেছে। তাই সতর্কতা হিসেবে রেডিট, স্ন্যাপচ্যাটের মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলোর ব্যবহার থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই প্রকৌশলী।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোজেনসটিন নতুন আইফোন কিনে তাঁর সহকারীকে এমন ফিচার সেট করতে বলেছেন, যাতে কোনো অ্যাপ তিনি ডাউনলোড করতে না পারেন।

রোজেনসটিন তাঁর উদ্ভাবিত ‘লাইক’ সম্পর্কে বলছেন, এটি নকল আনন্দের এক চকমকে ঘণ্টি।

তবে সিলিকন ভ্যালির সমালোচকেরা লাইক বাটনকে অ্যাটেনশন ইকোনমি বা মনোযোগ কাড়ার অর্থনীতি বলে থাকেন।

রোজেনসটিন বলেন, মানুষ ইতিবাচক অভিপ্রায় নিয়ে একটি জিনিস তৈরি করলেও অনেক সময় তার নেতিবাচক ফল দেখা যায়।

২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, তরুণেরা যত বেশি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সময় কাটায়, তারা তত বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

পৃথক এক গবেষণায় বলা হয়, ব্যবহারকারীর ওপর মানসিকভাবে সবচেয়ে বেশি বাজে প্রভাব ফেলে ইনস্টাগ্রাম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ভুয়া খবর সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে ছড়ালে তা স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ ডেকে আনে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারে মানুষের মধ্যে আসক্তি বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে। মানুষ দিনকে দিন আরও বোকা হচ্ছে। এই প্রবণতাকে বলা হচ্ছে কন্টিনিউয়াস পারশিয়াল অ্যাটেনশন। সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপ ব্যবহারের ফলে লক্ষ্যে স্থির থাকার ক্ষমতা সীমিত হওয়ার পাশাপাশি মেধা কমার ভয় রয়েছে।

রোজেনসটিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের কারণে সবাই সব সময় বিভ্রান্ত থাকছে।

ধন্যবাদ, itdoctor24.com এর সাথেই থাকুন।

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)