দ্রুত টাইপ শেখার কৌশল গুলো আসুন এখনই জেনে নিই

0
1464

আস সালামু আলাইকুম, আশা করি সবাই ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভাল। আজ আপনাদের শিখাবো দ্রুত টাইপ শেখার কৌশল গুলো। প্রথমেই বলে নিই, আপনার টাইপিং স্পিড কত। ধরেন আপনি দেখে দেখেই টাইপিং করেন তাহলে আপনার স্পিড কত সর্বোচ্চ? মনে হয় সর্বোচ্চ ১৫ওয়ার্ড প্রতি মিনিটে। হা হা হা। আপনি কি জানেন যে, এই পর্যন্ত সর্বোচ্চ টাইপিং স্পিড কত? ২০১০ সালে একজন টাইপিং এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ১৬৯ওয়ার্ড প্রতি ১মিনিটে টাইপ করে। বিশ্বাস হচ্ছে না?

তাহলে নিচের ভিডিও দেখে নিন।

যাই হোক, দেখুন আপনি কত পিছিয়ে। কারণ একমাত্র না দেখেই টাইপিং স্পিড বাড়ানো সম্ভব। আমার স্পিডও তত বেশি না। মাত্র ৪০ওয়ার্ড প্রতি মিনিটে।  তবে আশা করি দিনে দিনে এটা বাড়বে। আপনিও মানুষ। একটা মানুষ যদি মিনিটে ১৬৯ ওয়ার্ড টাইপ করতে পারে তাহলে আপনি কেন ৫০ওয়ার্ড টাইপ করতে পারবেন না??  তো চলুন জেনে নিই কিভাবে টাইপিং শিখবেন আর স্পিড বাড়াবেন।

১। আরামদায়ক জায়গাঃ আসলে জায়গাও টাইপিং এর একটা বড় বিষয় । এমন জায়গায় বসলেন যেটা আপনার টেবিল থেকে অনেক নিচু। তাহলে কখনও ভালভাবে টাইপিং করতে পারবেন না। অথবা এমন রুম এ টাইপিং করতে বসেছেন যেখানে সবাই চেচামেচি করতেছে বা প্রচুর শব্দ। সেখানেও আপনি প্রাথমিক ভাবে যখন শিখবেন তখন মন দিয়ে টাইপিং করতে পারবেন না। বার বার ভুল কি তে চাপ দিবেন। কারণ মনোযোগ ঐ দিকে চলে যাবে। তাই অবশ্যই খোলা মেলা এবং আরামদায়ক জায়গা বাছাই করতে হবে। আরেকটা কথা যারা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনারা দয়া করে কোলে ল্যাপটপ রেখে টাইপিং করতে যাবেন না। কারণ কোলে রেখে টাইপিং ভালভাবে শিখতে পারবেন না। দ্রুত টাইপ করতে পারবেন না। তাই অবশ্যই ল্যাপটপ টি টেবিলের উপর রেখে টাইপিং করুন।

২। ঠিকভাবে বসাঃ  টাইপিং এর ক্ষেত্রে ঠিক হয়ে বসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা না হলে আপনি দ্রুত টাইপিং করতে পারবেন না। আপনাকে সোজা হয়ে বসতে হবে এবং হাতের কবজি কিবোর্ড বরাবর রাখতে হবে। এতে করে করে আঙ্গুলগুলো নড়াচড়া ঠিকভাবে করা যাবে। আর স্পিড ও বেড়ে যাবে। কখনো ঝুকে পড়ে টাইপিং করা উচিত নয়। এতে স্পিডও যেমন কম হবে তেমনি আপনার মেরুদন্ডে সমস্যা হতে পারে।

৩। আঙ্গুলগুলো সঠিক স্থানে রাখাঃ আংগুল গুলো সঠিক স্থানে রাখা। মানে প্রথমে আটটি আঙ্গুল যেই আটটি কি এর উপর রাখতে হয় সেগুলোর উপর রেখে টাইপিং প্র্যাক্টিস করতে থাকুন। ভুল করেও অন্য কি গুলোর উপর আঙ্গুল রাখবেন না। আশা করা যায় আপনার স্পিড আস্তে আস্তে বেড়ে যাবে।

৪। অনুশীলন করাঃ
আর ভাই প্র্যাক্টিস এর বিকল্প নাই। আপনি প্রতিদিন এই টাইপিং প্র্যাক্টিস করতে থাকুন। জানি প্র্যাক্টিস করতে আপনার ভাল লাগবে না। কিন্তু প্রতিদিনই এটা কমপক্ষে ১ঘন্টা করে করুন। অভ্যাস হয়ে গেলে আর খারাপ লাগবে না।

কিভাবে প্র্যাক্টিস করবেন বা শিখবেন না দেখে টাইপিং করা ?

আমি এর জন্য আপনাকে সাজেস্ট করবো Typing master 10 ব্যবহার করতে। কারণ এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই প্রতিটি লেসন প্র্যাক্টিস করে খুব সহজেই না দেখে টাইপিং করতে পারবেন এবং জানতে পারবেন আপনার টাইপিং স্পিড কত। তাই প্রতিদিন এটায় প্র্যাক্টিস করুন। মনে রাখবেন প্র্যাক্টিস মেকস এ ম্যান পারফেক্ট।

৫। টাচ টাইপিংঃ  টাচ টাইপিং শিখে ফেলুন। যদিও প্রথম দিকে অনেকটা কঠিন মনে হবে। কিন্তু একবার শিখে ফেললে  আস্তে আস্তে অনেক দ্রুত টাইপিং করতে পারবেন।

৬। অনুশীলন চালিয়ে যান ঃ  টাইপিং করতে করতে আপনার হাত ব্যথা হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আপনাকে টাইপিং করেই যেতে হবে। চেষ্টাকে কখনো থামাবেন না। টাইপিং করতে গিয়ে দেখবেন অনেক ভুল হচ্ছে, কিন্তু দ্রুত টাইপিং করতেই থাকবেন ভুল হবেই। ভুল হলে তো বেক স্পেস বাটন আছেই ঠিক করার জন্য । তাই ভুল হলে বেক স্পেস দিয়ে সেটা তখনই ঠিক করে ফেলবেন। কিন্তু গতি থামাবেন না। মনে রাখবেন গতিতে জীবন, স্থিতিতে মরণ।

যাইহোক, আশা করি আজকের পোস্ট আপনাদের একটু হলেও আপনার উপকারে আসবে । যদি ভাল লেগে থাকে আমার এই পোস্ট তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে আমাদের পাশে থাকবেন।

আজকের মত এই পর্যন্তই।

ভাল থাকু্ন সুস্থ থাকুন, প্রযুক্তিকে ভালবাসুন

আর আইটি ডক্টর টুয়েন্টিফোর ডট কম এর সাথেই থাকুন।

আল্লাহ হাফিজ

ফেসবুকে আমি 

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)