অনলাইনে কুইজের অনন্য ভুবন

0
683

সে না হয় বোঝা গেল, কিন্তু ‘কুইজার্ডস’ অর্থ কী? শব্দটা খোলাসা করে বললেন প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা সাজ্জাদ হোসেন, ‘ইংরেজি কুইজ ও উইজার্ড শব্দ মিলে হয়েছে কুইজার্ড। সাধারণ জ্ঞানচর্চা বা কোনো বিষয় সম্পর্কে জানার ব্যাপারটা যেন আনন্দের সঙ্গে হয়, এমন ভাবনা থেকেই এই নামকরণ।’

উদ্যোক্তারা কুইজার্ডসকে (www.quizards.co) শিক্ষা ও বিনোদনের মিশেলে এক শব্দে বলছেন ‘এডুটেইনমেন্ট’। শিক্ষামূলক উপাদান যেমন এখানে রয়েছে, তেমনি মজার মজার বিষয়ও যোগ হয়েছে কুইজে। কুইজের পাশাপাশি রয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে ইনফোগ্রাফিক ও নিবন্ধ। একলহমায় জানা যাবে আলোচিত সব বিষয় সম্পর্কে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রচারণা ব্যবস্থাপক আকিব মো. সাতিল জানালেন, ‘কুইজার্ডসে এখন পর্যন্ত ১৮৭টি বিষয়ভিত্তিক কুইজ রয়েছে। যেগুলোতে প্রায় ছত্রিশ হাজার মানুষ চল্লিশ হাজারেরও বেশিবার অংশ নিয়েছেন।’

বিষয়ভিত্তিক এসব কুইজের মধ্যে রয়েছে কিছু প্রতিযোগিতামূলক কুইজ আয়োজনও। যেগুলোতে অংশ নিয়ে সুযোগ থাকে পুরস্কার জিতে নেওয়ার। গত আগস্ট মাসে তেমনি একটি প্রতিযোগিতামূলক কুইজ আয়োজন ছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও আদর্শ নিয়ে—আমাদের বঙ্গবন্ধু। দারুণ সাড়া মিলেছিল সে আয়োজনে, জানালেন আয়োজকেরা।

কুইজার্ডসের কার্যক্রম শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নয়, রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন তাঁরা। এই কাজে যুক্ত রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া স্বেচ্ছাসেবকদের দল। তরুণদের এই উদ্যোগ সম্প্রতি সেরা ত্রিশ হিসেবে পেয়েছে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড। পুরস্কার বিজয়ী কুইজার্ডসের পথচলার গল্প শুনতেই ৫ নভেম্বর কথা হলো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে।

বন্ধুত্বে শুরু কুইজার্ডস

কুইজার্ডসের গোড়াপত্তনের কথা জানতে হলে জানতে হবে কুইজপাগল দিপেশ দেওয়ান ও সাজ্জাদ হোসেনের বন্ধুত্বের গল্প। দিপেশ তখন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র আর সাজ্জাদ পড়েন নটর ডেম কলেজ। রাজধানীতে কলেজ পর্যায়ে কোনো কুইজ প্রতিযোগিতা মানেই মুখোমুখি দুজন! কুইজের ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই তরুণ একসময় বনে গেলেন জানের বন্ধু! কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে পড়তে গেলেন দেশের বাইরে। কিন্তু কুইজের প্রতি টান তাঁদের কমেনি কখনো। দূরদেশে দুজনের কথা হলেই চলে আসত কুইজ প্রসঙ্গ, কুইজ নিয়ে কিছু করার পরিকল্পনা। সে পরিকল্পনা থেকেই যাত্রা শুরু করে কুইজভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল কুইজার্ডস। এই শুরুটা ২০১৪ সালে। দিপেশ দেওয়ান বললেন, ‘শুরুতে আমরা মজা করে কুইজ চর্চা করার জন্যই কাজটি করেছিলাম।’

বিশ্বামিত্র চৌধুরী

ধীরে ধীরে তাঁদের কাজের ব্যাপ্তি বাড়ল। মানুষ ইতিবাচকভাবে নিল তাঁদের উদ্যোগ। সে ইতিবাচক মনোভাব সাহস জোগাল দুই তরুণের মনে। ২০১৬ সালে বিস্তৃত হলো তাঁদের কাজ। দুজনের দলে ভিড়লেন বিশ্বমিত্র চৌধুরী। নিবন্ধন পেল তিন সহপ্রতিষ্ঠাতার কুইজার্ডস।

এই তরুণই উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে। দিপেশ দেওয়ান এনভায়রনমেন্টাল পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, সাজ্জাদ হোসেন সিস্টেমস অ্যান্ড সিনথেটিক বায়োলজি নিয়ে পড়েছেন প্যারিস ডিডর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ভারতের মাইশোর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এমবিএ করেছেন বিশ্বমিত্র চৌধুরী।দিপেশ দেওয়ান

নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে দেশে ফেরেন তিনজনই। নয়টা-পাঁচটা চাকরির পথে হাঁটেননি কেউই, কুইজার্ডসই তাঁদের এখন ধ্যানজ্ঞান। এ জন্য পরিচিত মানুষ আড়ালে অনেক কথাই বলেন, তবে তা নাকি খুব একটা কানে নেন না তাঁরা। দিপেশ বলছিলেন, ‘আমাদের উদ্যোগ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা আশাবাদী। আমরা যা করতে চাই তাতে তাঁদের সায় রয়েছে, তাই খুব একটা চাপ বোধ  হয় না।’

তবে তাঁদের কাজটি সহজ করেছে গত বছর ব্র্যাক মন্থন ডিজিটাল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডে বিনোদন বিভাগে বিশেষ সম্মানানা পুরস্কারপ্রাপ্তি। এ ছাড়া কুইজার্ডস ‘প্রোমোটিং বাংলাদেশ’ নামের একটি প্রতিযোগিতায় দেশের সেরা ১০টি ওয়েবসাইটের একটি নির্বাচিত হয়েও কাছের মানুষদের বুঝিয়েছে ভুল পথে হাঁটছেন না তাঁরা।

তিন তরুণ তুর্কির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও কয়েকজন। কুইজার্ডসের প্রকল্প ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে মাহফুজ সালেকিন, প্রচারণা ব্যবস্থাপক হিসেবে সাতিল আর কনটেন্টের কাজ দেখছেন মারজুকা তারতিল। তাঁদের সঙ্গে কাজ করছেন একঝাঁক অনুসন্ধিৎসু তরুণ।সাজ্জাদ হোসেন

তাঁদের লক্ষ্যও এখন তাই বড়। কুইজ ছাড়াও তাঁরা কাজ করছেন বাংলা ভাষায় তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরিতে। জ্ঞানভিত্তিক এসব কনটেন্ট দেশের তরুণদের মধ্যে বিনা মূল্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় তাঁদের। সহপ্রতিষ্ঠাতা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে ইংরেজি ভাষায় এমন বেশ কিছু জনপ্রিয় কুইজভিত্তিক ওয়েবসাইট রয়েছে। বাংলা ভাষায় সবার কাছে সে সুযোগ তৈরি করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। কুইজার্ডসে আমরা কুইজ, প্রবন্ধ ও ইনফোগ্রাফিকের পাশাপাশি ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপনার চেষ্টা করছি।’

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)