কিভাবে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হবেন ? গাইডলাইনসহ ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু জনপ্রিয় আয়ের পথ

0
873

আপনার মনের প্রশ্ন যদি হয়ে থাকে, কিভাবে আউটসোর্সিংয়ে বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সফল হওয়া যায়? আজকের পোস্টই আপনার জন্য, থাকছে গাইডলাইনসহ ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার জনপ্রিয় আয়ের পথ।

অনেকেরই ফ্রিল্যান্সার হওয়ার ইচ্ছা কিংবা আগ্রহ রয়েছে।কিন্তু সঠিক গাইডলাইন এবং প্রচলিত কিছু ভুলধারনা এবং প্রতারকদের প্রতারনার শিখার হয়ে অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং এ সফল হতে পারছেন না।আমাদের অনেকেই মনে করি ফ্রিল্যান্সিং মানেই টাকা আর টাকা।শুধু মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট খুলে বিড করতে থাকলেই একাউন্টে টাকা জমবে। অনলাইনে ইনকাম করার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা আর প্রচুর ধৈর্য থাকার মানসিকতা এবং একাগ্রচিত্তে কাজে লেগে থাকা। এ গুলোই হলো আউটসোর্সিংয়ে সফল হওয়ার মূল মন্ত্র।


একটা কথা আছে না পরিশ্রমই সাফল্যতার চাবিকাঠি।সবকিছু এমনি এমনি হয়ে গেলে পৃথিবী আজ এপর্যায়ে আসত না।আমরা এখন বাঙ্গালীরা শুধুই কাজ না জেনে,কিংবা ভালোভাবে দক্ষ না হয়ে মার্কেটপ্লেসগুলোতে বাংলাদেশের নাম খারাপ করছি।
.
একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য কিছু বাধ্যতামুলক শর্তঃ
.
*প্রথমত কাজের দক্ষতা।এই ফিল্ডে নামার আগে যেকোনো একটি কাজে দক্ষতা নিয়ে নামতে হবে।
.
* নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে।এবং প্রচুর ধৈর্য্য থাকতে হবে
.
*আপনার অবশ্যই কমিউনিকেশন স্কিল ভালো থাকতে হবে।ইংরেজিতে মোটামুটি লেভেলের একটা দক্ষতা প্রযোজন। তবে এখন নতুন ফ্রিল্যান্সারদের মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে।এর কারনেই অনেকেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন।এবং হতাশ হচ্ছেন।কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি জিনিস যেখানে আপনাকে লেগে থাকতে হবে।হাল ছাড়লে চলবেনা।এবং আপনাকে প্রচুর সময় দিতে হবে।তবে এই সময়ে যে জিনিসটি ট্রেন্ডে তা হলো ট্রেনিং সেন্টার।আপনি হয়ত ফেসবুকে দেখে থাকবেন ৬ মাসেই অনলাইন ক্যারিয়ার গড়ুন আর হাজার হাজার টাকা আয় করুন।টাকা তো যেন হাতের মোয়া।তাই এসব ট্রেনিং সেন্টার সম্পর্কে আগে ভালোভাবে খোজখবর নিন।তারা কি শিখাচ্ছে কিংবা কোন খাতে আপনাকে দক্ষ করবে ওটা সম্পর্কে আগে গুগল করে নিন।শুধু শুধু বিশ ত্রিশ হাজার টাকা খরচ করবেন পরে দেখবেন কাজের কাজ কিছুই করতে পারবেন না।আমার এক বড় ভাই ফেসবুকে এড দেখে ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে অনেক টাকা খোয়া দিয়েও ইন্টারনেট থেকে একটা কড়িও ইনকাম করতে পারেনি।তাই জেনে বুঝে পা বাড়ান।আজকাল অনেক কিছু ইন্টারনেট থেকেই শেখা যায়।গুগল ইউটিউব মামা আছে না।এবার কথা বলব ফ্রিল্যান্সিং এর কিছু জনপ্রিয় এবং লাভজনক খাত নিয়ে
.
.
সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট-

আজকাল আউটসোর্সিংয়ে যে জিনিসিটির সবচেয়ে বেশি ডিমান্ড সেটি হলো সফ্টওয়্যার ভেভেলপমেন্ট খাত।আপনি যদি এই খাতে দক্ষ হোন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে আপনি অনেক উন্নতি সাধন করতে পারবেন।ফ্রিল্যান্সিংয়ে এই খাতটি একটি ট্রেন্ড এ আছে বলতে পারেন।এবং এটি ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবচেয়ে লাভজনক খাত।আপনি এই খাতে এন্ড্রয়েড এপ ডেভেলপ করে অনেক টাকা আয় করতে সক্ষম হবেন।এবং এই খাতে প্রচুর কাজও পাওয়া যায়।তবে হ্যা আপনার দক্ষতাই আপনাকে আপনার লক্ষ্যে পৌছে নিয়ে যাবে।আপনি যদি এন্ড্রয়েড এপ ডেভেলপমেন্ট শিখতে চান,আপনাকে কিছু প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জানতে হবে।যেমন c++,java ইত্যাদি।এটিও অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।আপনি এন্ড্রয়েড এপ ডেভেলপমেন্ট শিখে এপ বানিয়ে প্লে স্টোর থেকেও টাকা আয় করতে পারবেন।তবে ভাই আজেবাজে এপ বানিয়ে দেশের নাম খারাপ করবেন না।প্লেস্টোরে তো দেখছেন।আর কি বলমু
.
.
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট-

ফ্রিল্যান্সিংয়ে এই খাতটিও প্রচুর জনপ্রিয়।একসময় ফ্রিল্যান্সিং এ সবচেয়ে বেশি কদর ছিলো এই খাতটির।ওয়েবডেভেলপমেন্ট শিখে আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ে ভালো ক্যারিয়ার অর্জন করতে পারবেন।ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখা একটি সময় সাক্ষেপ ও ব্যাপার।আপনার হয়তো ফেসবুক এড দেখেন,মাত্র ছয় মাসে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ক্যারিয়ার গড়ুন।এসব আসলে ভুয়া প্রতারনা ছাড়া আর কিছুই নাই।এসব ট্রেনিং সেন্টারে আপনি কখনই সঠিক গাইডলাইন পাবেন না।তাই এসব থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।একজন ভালো এবং দক্ষ ওয়েবডেভেলপার হতে অনেক শ্রমের প্রয়োজন রয়েছে।এটি কমপক্ষে দেড় থেকে দু বছর সময় নেয় মোটামুটি একটা লেভেলে আসতে,ওয়েব ডেভেলপমেন্টে যে ল্যাঙ্গুয়েজগুলি শিখতে হয় তা হলো basic লেভেলে html,css এরপর java script php নিয়ে অনেক framework এ কাজ করতে পারেন।ফ্রিল্যান্সিংয়ে ওয়েব ডেভেলপারদের ডিমান্ডও প্রচুর।আপনি এই খাতে দক্ষ হয়ে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন।তবে ধৈর্য্য লাগবে।বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে ওয়েব ডেভেলপারদের উদ্দোক্তা হওয়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে।এর জন্য দরকার শুধু কিছু দারুন আইডিয়া।দেখেন না আমাদের রানা ভাই একজন ছোট উদ্দোক্তা বলতে পারেন।ট্রিকবিডির মতো একটি প্ল্যাটফরম তৈরি করে তিনিও কিন্তু একজন ছোট উদ্দোক্তা।শুধু দরকার দারুন কিছু আইডিয়া 

.
.
SEO:

এই খাতটিও ফ্রিল্যান্সিংয়ে একটি জনপ্রিয় খাত।এই খাতটি একসময় মার্কেটপ্লেসে প্রচুর জনপ্রিয় ছিল।SEO সম্পর্কে আমরা কম বেশি অনেকেই জানি। SEO হচ্ছে Search Engine Optimization. আপনি একটি প্রোডাক্ট তৈরি করলেন।সেটি জনগনের কাছে পৌছাবে কি করে?সেটার তো মার্কেটিং করতে হবে তাই না?ঠিক আপনার একটা ওয়েবসাইট আছে সেটা বানিয়ে বসে থাকলে তো হবে না।আপনার ওয়েব সাইটেরও মার্কেটিং করার একটা মাধ্যম SEO।যেটা সম্পর্কে গুগল থেকে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।SEO শিখাটা তেমন একটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার না।৫ থেকে ৬ মাসেই শেখা যায়।তবে SEO শিখে মার্কেটপ্লেসে নামার আগে কিছু লোকাজ কাজ করে নিলে ভালো হয়।
.
.
Grapics Design-

এটি একটি প্রচুর জনপ্রিয় খাত।Grapics Design শিখেও আপনি ভালো ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।একজন ভালো Grapics designner হতে হলেও অনেক ধৈর্য্য প্রয়োজন।এবং এটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এছাড়া ডাটা এন্ট্রি,লিখালিখি ছাড়াও আরও অনেক খাত রয়েছে ফ্রিল্যান্সিং এ।


.
*সবশেষে আমাদের যা বর্জন করতে হবে।শুধু শুধু কাজ না শিখে কিংবা দক্ষ না হয়ে মার্কেটপ্লেসে আসা উচিত না।দক্ষতা হলোই আসল।ভালো করে কাজ শিখুন,চর্চা করুন।পরিচিত কেউ থাকলে তাদের সাহায্য নিন।ভালোভাবে কভার লেটার লিখতে শিখুন।কমিউনিকেশন স্কিল ভাল করার চেষ্টা করুন।তারপর বিড করুন।আর কাজ না পেলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই লেগে থাকুন।সফলতা আসবেই।আমাদের দেশেরই অনেক তরুন তরুনীরা ফ্রিল্যান্সিং করে প্রচুর টাকা আয় করছে ঘরে বসে।এবং এটি আমাদের অনেকাংশে বেকারত্বের হার কমাচ্ছে।তাই হতাশ না হয়ে লেগে থাকুন।
.
সবাই ভাল থাকবেন।সময় হলে আবার অন্য কোনো টপিক নিয়ে লিখব। আর অবশ্য়ই শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু , জানেনতো Sharing is caring. ধন্যবাদ ।

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)