দারাজকে কিনে নিল আলিবাবা, সঙ্গে বিকাশের ২০ শতাংশ শেয়ার

0
558

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও নেপালে ই-কমার্স কোম্পানি দারাজকে কিনে নিয়েছে আলিবাবা।

বাংলাদেশে শুধু দারাজ নয়, গত সপ্তাহে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে চীনের এ জায়ান্ট কােম্পানি। সেখানে বিকাশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করবে আলিবাবা

দারাজ বাংলাদেশের কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরেই বিক্রির চেষ্টা  করে আসছিল। বিক্রি নিয়ে আলীবাবা গ্রুপের সঙ্গে আলোচনাও চলছিল অনেক দিন ধরে।

আলিবাবার কাছে বিক্রি হলেও দারাজের ব্র্যান্ড নামে কোন পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন দারাজ বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা।

দারাজ বাংলাদেশ জানায়, আলিবাবার অভিজ্ঞ নেতৃত্বে প্রযুক্তি, অনলাইন কমার্স, মোবাইল পেইমেন্ট এবং লজিস্টিকস দ্বারা লাভবান হবে দারাজ।

দারাজের কো-সিইও বিয়ার্কে মিক্কেলসেন বলছেন, যেকোনো জায়গায় ব্যবসাকে সহজ করতে পারার উদাহরণ দারাজ। এখন পর্যন্ত এর বিপুল সম্ভাবনার ছোট্ট একটি অংশকে ছুঁতে পেরেছি আমরা। চুক্তি  হয়েছে, দারাজ এখন আলিবাবা পরিবারের।

দারাজের আরেক কো-সিইও ড. জনাথন ডোয়ার জানিয়েছেন, আলিবাবার সাথে হাতে হাত মিলিয়ে এই অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন করা হবে।

বাংলাদেশে ফ্ল্যাট-বাড়ি ও জায়গা-জমি নিয়ে লামুডি, গাড়িতে কারমুডি, খাবার-দাবারে ফুডপান্ডা, নিত্যপণ্যের মার্কেটপ্লেস (বিক্রির মাধ্যম) কেইমু, দারাজ ডটকম (সরাসরি বিক্রি) ও জব মার্কেটপ্লেস এভারজবস ও  অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের মার্কেটপ্লেস জোভাগোসহ  সাতটি ভেঞ্চার চালু করেছিল রকেট ইন্টারনেট।

এরমধ্যে কেইমু ডটকম ডটবিডি টিকতে না পেরে ২০১৭  সালে একীভূত হয়ে যায় দারাজের সঙ্গে। জোভাগো বন্ধ হয়ে যায় একই বছরের ডিসেম্বরে। এভারজবস ধুঁকছে যা না থাকার মতো। আর ফুডপান্ডা তো জার্মানিভিত্তিক ডেলিভারি হিরোর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে রকেট।

রকেট ইন্টারনেট ও কাতারের ওরিডু গ্র‌ুপের মিলিত ভেঞ্চার হিসেবে ২০১৫ সালে শুরু হয় এশিয়া প্যাসিফিক ইন্টারনেট গ্রুপ বা  এপিএসিআইজি। এশিয়ার উদীয়মান যত ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসার সুযোগ রয়েছে সেগুলোকে কাজে লাগানোকেই লক্ষ্য করে তারা যাত্রা শুরু করেছিল।

এপিএসিআইজি এ পর্যন্ত বেশ কিছু বড়সড় কোম্পানি দাঁড় করায় যার মধ্যে এই লামুডি, দারাজ, লাজাডা, জালোরা ও অন্যান্য ভেঞ্চারের নাম উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশে দারাজ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। যেখানে গ্রুপের অন্য কোম্পানিগুলোর মতো টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে ছিল তারাও।

এর মধ্যে ২০১৮ সালের মার্চে স্টার্টআপ ও নতুন-পুরোনো সকল কোম্পানির সর্বশেষ গতিপ্রকৃতি নিয়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক গবেষণাকারি প্রতিষ্ঠান মোমেন্টাম ওয়ার্কস এপিএসিআইজি – এর টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

যেখানে উল্লেখ করা হয়, মার্চের প্রথম দিনই গ্রুপটির একটি কোম্পানি লাইক বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন  ২ মার্চ তাদের কয়েকটি কোম্পানি হতে অনেক কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম জেন রুমস । আর লাজাডা চীনা কোম্পানির কাছে বিক্রি হয়েছে আগেই।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তখন স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশে গ্রুপটির অন্যতম ভেঞ্চার দারাজের গন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সে সময় আলিবাবার কাছে বিক্রির বিষয়টি আলোচনা পর্যায়েই ছিল।

পোস্টটি প্রয়োজনীয় হলে শেয়ার করুন।

ধন্যবাদ, itdoctor24.com এর সাথে থাকুন

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)