ব্যর্থতার কারণে বিটিসিএল এমডি অপসারিত

0
552

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি বিটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ হতে মাহফুজ উদ্দিন আহমদকে অপসারণ করা হয়েছে।

সরকারের তিন বছরের চুক্তি থাকলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগেই তার নিয়োগপত্র প্রত্যাহার করা হলো। সোমবার এই কর্মকর্তার নিয়োগপত্র বাতিল অথবা প্রত্যাহারের চিঠি ইস্যু করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাহফুজ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থেকে নানা রকম অভিযোগ ছিল। তবে সরকারের দুটি অগ্রাধিকার প্রকল্পে তার দিক থেকে কোনো সহযোগিতা তো পায়ইনি বরং নানা ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর সে কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হল বলে বলছেন, মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।

মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (কোম্পানি-১ শাখা) বেগম নুসরাত আইরিন স্বাক্ষতির চিঠিতে চিঠি ইস্যুর দিন হতেই মাহফুজ উদ্দিন আহমদকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্যাটেলাইটের দুটি গ্রাউন্ড স্টেশনের মধ্যে কানেকটিভিটি তৈরি করার জন্যে সরকারের দিক হতে বিটিসিএলকে আরও কয়েক মাস আগেই অনুরোধ করা হলেও এখন পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে কোনো কাজই করতে পারেনি। পরে বিটিআরসি বাধ্য হয়ে সামিট কমিউনিকেশন্সের কাছ থেকে কানেকটিভিটি কিনে নিচ্ছে।

এর আগে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের কুয়াকাটার ল্যান্ডিংস্টেশনের সঙ্গে দেশের অন্য অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ নিয়ে আসার নেটওয়ার্ক স্থাপনের ক্ষেত্রেও বিটিসিএল নানা জটিলতা তৈরি করে। সে কারণে নির্ধারিত সময়ের অন্তত দশ মাস পরে দ্বিতীয় ক্যাবলের সংযোগ পায় দেশ। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনও এর তদন্ত করে।

তাছাড়া যে নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে, সেটিও যথেষ্ট পরিমাণ ব্যান্ডউইথ দেশের মধ্যে আনতে পারছে না। আর এসব মিলে নানা পক্ষ তার কাজের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিল। আর তার দায় নিয়েই এই দফায় পদ হারাতে হল মাহফুজ উদ্দিন আহমদকে-এমনটাই বলছিলেন সংশ্লিস্টরা।

২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর দ্বিতীয় মেয়াদে বিটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পান মাহফুজ উদ্দিন আহমদ। এর আগেও প্রথম দফায় তার চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল।

তবে নানা মহলের চেষ্টায় অবশ্য আবার নিজের জায়গা ফিরে পেয়েছিলেন।

পোস্টটি প্রয়োজনীয় হলে শেয়ার করুন

ধন্যবাদ, itdoctor24.com এর সাথে থাকুন

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)