সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ গুলোতে কতক্ষণ বেঁচে থাকা সম্ভব?

0
564

মহাকাশ সুবিশাল, এর শেষ নেই বললেই চলে, এটা রহস্যজনক আর ভয়াবহ! — তাইতো স্পেস এতোবেশি ভালোলাগে! সবচাইতে মজার ব্যাপার হচ্ছে স্পেস সম্পর্কে আপনি যতোই জানবেন, আপনার কাছে ততোই নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হবে। আপনি যদি জানতে ভালোবাসেন, আর প্রশ্ন করতে ভালোবাসেন, সেক্ষেত্রে স্পেস নিয়ে পড়াশুনা করা আপনার জন্য সর্বোত্তম প্রমাণিত হতে পারে।

তো চলুন, আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করা যাক… সৌরজগতের আলাদা গ্রহ গুলোতে কতক্ষণ বেঁচে থাকা সম্ভব? বা সূর্যে চলে গেলে আপনার কি হতে পারে, অথবা ব্ল্যাকহোলে প্রবেশ করলে কি হবে? সূচনাতে বসে থাকতে আর মোটেও ইচ্ছা করছে না, চলুন দ্রুত আর্টিকেল শুরু করা যাক!

বুধ

তো চলুন এবার সৌরজগতের একেক করে সকল প্ল্যানেট গুলো ভ্রমন করা যাক, তো প্রথমেই চলে আসে বুধ গ্রহ বা যেটাকে মার্কারি গ্রহও বলা হয়। বুধ সূর্যের সবচাইতে কাছের অবস্থিত প্ল্যানেট, মানে বুঝতেই পারছেন এর সার্ফেসে তাপমাত্রা কতোটা বেশি হতে পারে। দিনের বেলায় এতে ৪৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠে যেতে পারে এবং রাতের বেলায় সেই তাপমাত্রা ড্রপ করে -১৭০ ডিগ্রীতে নেমে আসতে পারে। বুধের রোটেশন অনেক স্লো, তাই দিন থেকে রাত আর রাত থেকে দিন হতে অনেক বেশি সময় লেগে যায়। বুধের কোন কোন স্থানে সহনীয় তাপমাত্রা হয়তো পেয়ে যেতে পারেন, বা বিশেষ টাইপের স্পেসসুট বানিয়ে কিছুটা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, কিন্তু তারপরেও বুধ মোটেও বাসের জন্য যোগ্য গ্রহ নয়, কেননা এতে কোনই অক্সিজেন নেই। তো বুধে আপনি মোটামুটি এক মিনিটের মতো টিকে থাকতে পারবেন, তারপরে হয় ঠাণ্ডায় জমে পাথর হয়ে যাবেন, অথবা গরমে গলে বাষ্পে পরিণত হবেন।

যদি তাপমাত্রার কারণে না মরেন, সেক্ষেত্রে সূর্য থেকে আসা রেডিয়েশন আপনাকে তেলে ভাজা বানিয়ে ছাড়বে না হলে অক্সিজেনের অভাবে আরো ভয়াবহ মৃত্যু ঘটতে পারে আপনার। বাফরে, দরকার নেই মার্কারি ভিজিট করবার, চলুন এবার পরবর্তী গ্রহের দিকে এগোনো যাক…

শুক্র

সূর্য থেকে দূরত্ব অনুসারে শুক্র গ্রহ হচ্ছে দ্বিতীয়, একে ভেনাস গ্রহ ও বলা হয়ে থাকে। আমি বিশেষ করে এই গ্রহকে জাহান্নাম বলেই চিনি। সূর্যের নিকটতম গ্রহের নাম বুধ হতে পারে কিন্তু তাপমাত্রার দিকে সবার বাপ হচ্ছে শুক্র গ্রহ। এই গ্রহের বায়ু মণ্ডল এতোটাই বেশি ঘন যে স্পেস থেকে এর সার্ফেস দেখতে পাওয়া যায় না। সম্পূর্ণ গ্রহে রয়েছে বিশাল মোটা স্তরের মেঘ আর সেগুলো সূর্যের তাপ গ্রিনহাউজ ইফেক্টের মাধ্যমে শুক্রেই ধরে রাখে। তাই এই সম্পূর্ণ প্ল্যানেটের সর্বত্র একই রকমের তাপমাত্রা, যেটা ৮৭০ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে!

আশা করছি এর তাপমাত্রা থেকেই অনুমান করতে পারছেন, ঠিক কতোক্ষণ টিকতে পারবেন এই গ্রহে। আমার অনুমান অনুসারে ১ সেকেন্ড বা তারও কম সময়ের মধ্যে আপনি শেষ হয়ে যাবেন। তাছাড়া সম্পূর্ণ প্ল্যানেট জুড়ে রয়েছে কার্বনডাই অক্সাইডের রাজত্ব, সাথে এসিড রেইন আপনাকে যেকোনো সময় গলিয়ে মেরে ফেলবে। সাথে এই গ্রহের ঝড়ের যা গতি, কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশ গ্রহের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাবে। তো হ্যাঁ, অবশ্যই শুক্রে যাওয়ার চিন্তা এক মহা দুশ্চিন্তা ছাড়া আর কিছুই নয়। যদিও বিজ্ঞানীদের মতে শুক্র এক সময় পৃথিবীর মতোই ছিল এবং সাইজের দিক থেকে একে পৃথিবীরই বোন বলতে পারেন।

মঙ্গল

মঙ্গলের নাম শুনে কলিজায় জ্বল চলে আসলো তাই না? এই মঙ্গল গ্রহ বা মার্সে পৌঁছানর জন্যই তো আমাদের বিজ্ঞানীরা রাতদিন এক করে কাজ করে চলেছে তাই না? এক অপেক্ষা করুণ পাঠক, মঙ্গল মোটেও উপযোগী কোন জায়গা নয়, বরং এটি আলাদা প্ল্যানেট গুলোর মতোই জাহান্নাম।

এর বায়ুচাপ অত্যন্ত কম হওয়ার জন্য আপনার শরীরের মধ্যের তরল গুলো ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাছাড়া এর ম্যাগনেটিক ফিল্ড অত্যন্ত দুর্বল হওয়ার ফলে সোলার উইন্ড থেকে গ্রহটি মোটেও সুরক্ষিত নয়, এর সর্বত্রই রয়েছে ক্ষতিকর রেডিয়েশন আর আপনি যা থেকে মোটেও লুকাতে পারবেন না। যদিও গ্রহটির গরমকালের তাপমাত্রা কিছুটা মানুষের সহ্যের মধ্যেই, কিন্তু শীতকালে এক সেকেন্ডের মধ্যে জমে পাথর হয়ে যাবেন। তাছাড়া এই গ্রহে মুক্তভাবে নিশ্বাস গ্রহণ করার জন্য অক্সিজেন মজুদ নেই। খুব বেশি হলে ১ মিনিটের কিছুটা সময় হয়তো এতে বেঁচে থাকা সম্ভব, তারপরেও আপনি মরে মঙ্গলেরই একটি অংশে পরিণত হবেন।

ধন্যবাদ, itdoctor24.com এর সাথেই থাকুন।

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)