ইতিহাসের সেরা কতগুলো কম্পিউটার হ্যাক! যা সবাইকে চমকে দিয়েছিল

0
567

সিস্টেম এর নানা বাগ এবং ফাঁক-ফোকর বের করে অত্ত্যান্ত নিপুণভাবে সেই সিস্টেম এর কন্ট্রোলে প্রবেশ করে গোপন ভাবে তার নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয়াকে বাস্তবিক অর্থে হ্যাক বলে। যেখানে বিশ্বের বহু হ্যাকার নিছক সখের বসে এসব কাজ করে থাকে; তবে বহু হ্যাকার রয়েছে যারা তাদের মাথায় অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে হ্যাকিং  এর মাধ্যমে মানুষের অনুভুতি থেকে শুরু করে , বাবসায়িক এবং অর্থনৈতিক বহু ক্ষতি সাধন করে থাকে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক এর রিজার্ভ থেকে হ্যাকারদের চুরি করে নিয়ে যাওয়া অর্থ এমনি এক অসৎ উদ্দেশ্য এর বাস্তবিক ফসল।

দা কনফিকার ওয়ার্ম ২০০৮ঃ মিলিয়ন মিলিয়ন ডিভাইস হ্যাকারদের দখলে

এবারের কম্পিউটার হ্যাকটি হ্যাকারদের তৈরি একটি কম্পিউটার বা ওয়ার্ম । এর নাম দা কনফিকার ওয়ার্ম ২০০৮। প্রোগ্রামটি তো কম্পিউটারএর ক্ষতি করে তো করেই এবং কম্পিউটার বা যে ডিভাইসটি অ্যাটাকটড হয়েছে তা থেকেও একে চিরতরে মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব। ব্যাপারটি আরও ভয়ংকর যখন আপনি শুনবেন যে, এই দা কনফিকার ওয়ার্ম ২০০৮আপনার কম্পিউটারের ভেতর প্রবেশ করে নিজেকে লুকিয়ে ফেলে এবং নিজের অনেকগুলো কপি তৈরি করে ফেলে।

অতঃপর এটি কম্পিউটারের ভেতর অনেক ব্যাকডোর তৈরি করে যার ফলে হ্যাকাররা পরবর্তীতে ইনফেক্টেড কম্পিউটারএর পুরো দখল নিয়ে নিতে পারে। এই প্রোগ্রামটি কম্পিউটারকে একটি জম্বিবোট বানিয়ে দেয় -কেননা এখানে এটি কম্পিউটারের যাবতীয় সোস্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পাসওয়ার্ড এবং ক্রেডিট কার্ড এর তথ্য চুরি করে হ্যাকার তথা ওয়ার্ম সফটওয়্যারটির তৈরিকারকদের নিকট পাঠিয়ে দেয়।

অ্যাসলে ম্যাডিসন হ্যাকঃ ৩৭ মিলিয়ন মানুষের বাক্তিগত তথ্য বেদখল!

সর্বকালের অন্যতম কম্পিউটার হ্যাক এর মধ্যে একটি হল কানাডিয়ান জনপ্রিয় অনলাইন ডেটিং সেবা “অ্যাসলে ম্যাডিসন” এর হ্যাক হয়ে যাওয়া। ইমপ্যাক্ট টীম নামক একটি হ্যাকার দল “অ্যাসলে ম্যাডিসন” এর প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যাভিড লাইফ মিডিয়াএর সার্ভার হ্যাক করে ফেলে। যার ফলে “অ্যাসলে ম্যাডিসন” এর প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যায়। অতঃপর এই অনলাইন ডেটিং ওয়েবসাইটের বহু পার্সোনাল তথ্য বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ফাঁশ হতে দেখা যায়।

তবে এমনও শোনা গিয়েছে যে অ্যাসলে মেডিসন এর অনেক ব্যবহারকারীর ব্যাক্তিগত তথ্য পাবলিকলি প্রকাশ পাওয়ার কারনে অনেকে আত্মহত্যা পর্যন্ত করছিল। তবে বহু বিশ্বাসঘাতকতা এবং মিথ্যা সম্পর্কের তথ্য প্রকাশের জন্য হ্যাকার টীমটি মানষের অনেক ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছিলো। আর এসব কারনে ১৫জুলাই, ২০১৫ সালের এই হ্যাকের ঘটনা অনেক স্মরণীয়।

স্টাক্সনেট ওয়ার্ম ২০১০ঃ ইরানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে যাওয়া

এই হ্যাকটি ইরানের পুরো নিউক্লিয়ার প্রোগ্রামকে বন্ধ করে দিয়েছিল। হ্যাকারদের তৈরি ১ এমবি এর চাইতেও কম সাইজের এই বিশেষ ওয়ার্ম  সফটওয়্যারটি ইরানের নিউক্লিয়ার পরিশোধন প্ল্যান্ট এর পুরো Supervisory control and data acquisition (SCADA) কন্ট্রোল সিস্টেমকে হ্যাক করে নিয়েছিল। এই ওয়ার্মটি পুরো কম্পিউটার কন্ট্রোল সিস্টেমকে হ্যাক করে নিয়ে অনেক মূল্যবান ইউরেনিয়াম এর হাজার হাজার পরমানুর পরিশোধন প্রক্রিয়া নিজেদের আওতায় করে নেয়।

এই মারাত্মক ওয়ার্ম প্রোগ্রামটির নির্দেশে কখন পরমানুগুলোর নন-স্টপ স্পিনিং বা ঘোরা শুরু হয়ে তা আবার হঠাৎ করে থেকে যায় এমনকি বন্ধ হয়ে যায়। আর যা মিলিয়ন ডলারের ইউরেনিয়াম সম্পদকে বিনষ্ট করে। অতঃপর ওয়ার্ম  সফটওয়্যারটির ইন্টারনাল কোডিংএ থেকে এর নাম আবিস্কার করা যায়, আর তা হল স্টাক্সনেট।

স্প্যামহাউস ডিডস অ্যাটাক [২০১৩]

ডিসট্রিবুটেড ডিনায়াল অফ সার্ভিস বা ডিডস অ্যাটাক সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি হয়ত জানি। ডিসট্রিবুটেড ডিনায়াল অফ সার্ভিসে কোন ওয়েবসাইটে অনেক সংখ্যক ভিজিটরকে একসাথে ওয়েবসাইটিতে চাপিয়ে দেয়া হয়; আর সাইটটির ভিজিটর বেড়ে যাওয়াতে ব্যান্ডউইথ শেষ হয়ে গেলে সাইটটিতে আর প্রবেশ করা না—আর এটিই হচ্ছে ডিনায়াল অফ সার্ভিস। তবে ২০০৩ সালে এমন একটি ডিডস অ্যাটাক সংঘটিত হয়েছিল যা বলতে গেলে তৎকালীন সময়ে পুরো ইন্টারনেটকে একটু স্লো ডাউন করে দিয়েছিল।

মূলত এখানে ডিডস অ্যাটাকারদের টার্গেট ছিল স্পামহাউস নামক একটি অনলাইন নন-প্রফিট স্পাম প্রোটেকশন সার্ভিসকে বন্ধ করে দেয়া। আর তখনকার সময় এই বিশাল  ‘ডিসট্রিবুটেড ডিনায়াল অফ সার্ভিস অ্যাটাক’ এর জন্য পুরো পৃথিবীর ইন্টারনেট কিছুটা সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। অ্যাটাকাররা ৩০০ গিগাবিট পার সেকেন্ডে প্রায় ১০০ এরো বেশি ডোমেইন-সার্ভারকে টার্গেট করেছিল, যা তাদের টার্গেট এর পাশাপাশি পুরো ইন্টারনেটকে প্রায় অচল করে দিয়েছিল।

দা হোম ডিপোট ক্রেডিট কার্ড হ্যাক [২০১৪]

কোথায় ক্রেডিট কার্ড এর সবচাইতে বেশি ব্যাবহার হতে পারে? শপিং মলে না বড়বড় রিটেইল স্টোর চেইনে তাইনা? ঠিক এমনি একটি বিশ্ববিখ্যাত গ্রোসারি রিটেইল চেইন হল দা হোম ডিপোট । তবে ২০১৪ সালে এই  দা হোম ডিপোর্ট এর অপর সংঘটিত হয়ে যায় একটি বড়সড় ক্রেডিট কার্ড হ্যাক যা ছিল বহু মানুষের বিশ্বস্থ এই রিটেইল শপ এর জন্য একটি কালো অধ্যায়।

কোন এক হ্যাকার গ্রুপ কোনভাবে এর একটি ভেন্ডর কম্পিউটার এর অ্যাক্সেস হ্যাক করে ফেলে, যার মধ্য দিয়ে তারা এই  রিটেইল শপটির পুরো এক কন্টিনেন্ট এর ট্রানজেকশন হিস্ট্রি পর্যন্ত পৌছাতে সক্ষম হয় এবং সেখান থেকে তারা  হাজার হাজার গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ড তথ্য চুরি করে ফেলে।

লিঙ্কডইন হ্যাক [২০১৬]

লিঙ্কডইন হ্যাক ছিল ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যাক। এই সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট লিঙ্কড ইন হ্যাক এর বিষয়টি ছিল অনেক লজ্জাজনক এবং লক্ষণীয়। কেননা এখানে স্বয়ং কোম্পানি তথা লিঙ্কড-ইন বুঝতে পেরেছিল যে তারা ৪ বছর ধরে আসতে আসতে এই বড় হ্যাক এর স্বীকার হয়েছে।

এখানে লিঙ্কডইন এর প্রায় ১৬৪ মিলিয়ন বাবহারকারির লগিন ইনফর্মেশন হ্যাকারদের দখলে চলে গিয়েছিল। মূলত হ্যাকাররা ২০১২ সাল থেকে এই কাজটি শুরু করেছিল এবং টানা ৪ বছর ধরে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ডিজিটাল মার্কেটে সেসব তথ্য বিক্রি করেছিল। তবে আফসোস ৪ বছর ধরে এই কাজটি হ্যাকাররা গোপনেই পরিচালনা করেছিল , এটি প্রকাশ পায় শেষ ২০১৬ সাল নাগাদে।

ধন্যবাদ, itdoctor24.com এর সাথেই থাকুন।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)