বাংলা চিঠি লিখার নিয়ম জেনে নিন এখনই

0
681

আস সালামু আলাইকুম, আশা করি সবাই ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় আমিও ভাল আছি। আজ শেখাবো বাংলা চিঠি লিখার নিয়ম। অর্থাৎ বাংলা চিঠি কিভাবে লিখতে হয় তা দেখাবো। একদিনে যেহেতু সব দেখানো সম্ভব না। তাই আজ আমি আপনাদের দেখাবো কিভাবে ব্যক্তিগত পত্র লিখতে হয়। তো চলুন শুরু করি…

ব্যক্তিগত পত্রের সাধারণভাবে নিচের অংশগুলো থাকে–

১. মঙ্গল সূচক শব্দঃ চিঠির মাঝ বরাবর উপরে লিখতে হয়। ধর্মভেদে এ শব্দ আলাদা আলাদা হতে পারে। যেমন ‘ইয়া রব’,  বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম বা ‘ঔঁ’ ইত্যাদি। তবে এ প্রথা এখন তেমন চলে না।

২. স্থান ও তারিখঃ মঙ্গল সূচক শব্দের নিচে ডানদিকে লেখকের ঠিকানা ও তারিখ লিখতে হয়। প্রথমে ঠিকানা ও পরে তারিখ। তারিখ ইংরেজি বা বাংলা দুটোই বা যেকোন একটি লেখা যেতে পারে।

৩. সম্বোধন বা সম্ভাষণঃ মঙ্গল সূচক শব্দের নিচে বামদিকে সম্বোধন লেখা হয়। প্রেরক ও প্রাপকের বয়স ও মর্যাদাভেদে এটি আলাদা আলাদা হয়।

প্রারম্ভিক সম্ভাষণ
শ্রদ্ধাভাজন পুরুষশ্রদ্ধাভাজনেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, পরম শ্রদ্ধাস্পদ, মান্যবর, মান্যবরেষু, মাননীয়, মাননোয়েষু ইত্যাতি।
শ্রদ্ধাভাজন মহিলাশ্রদ্ধেয়া, শ্রদ্ধাস্পদাসু, মাননীয়া, মাননীয়াসু ইত্যাদি।
পুরুষ বন্ধুপ্রিয়, সুপ্রিয়, প্রিয় বন্ধু, বন্ধুবরেষু, প্রিয়বরেষু, প্রিয়বর, বন্ধুবর, সুহৃদবরেষু, প্রীতিভাজনেষু ইত্যাদি।
মহিলা বন্ধুপ্রিয়তমা, সুচরিতাসু, প্রীতিনীলয়াসু, সুহৃদয়াসু, প্রীতিভাজনীয়াসু, ইত্যাদি।
সম্ভ্রান্ত ব্যাক্তিমান্যবর, সুধী, সৌম্য ইত্যাদি।
বয়ঃকনিষ্ঠ ছেলেস্নেহের, স্নেহভাজনেষু, কল্যাণীয়, কল্যাণীয়েষু, স্নেহাস্পদেষু, প্রীতিভাজনেষু ইত্যাদি।
বয়ঃকনিষ্ঠ মেয়েস্নেহের, স্নেহভাজনীয়া, কল্যাণীয়া, কল্যাণীয়াসু, স্নেহভাজনীয়াসু ইত্যাদি।
বিদায় সম্ভাষণ
প্রাপক শ্রদ্ধাভাজন, প্রত্রলেখক পুরুষবিনীত, গুণমুগ্ধ, স্নেহধন্য, স্নেহাকাঙ্ক্ষী, প্রীত্যর্থী, প্রীতিধন্য, প্রণত ইত্যাদি।
প্রাপক শ্রদ্ধাভাজন, প্রত্রলেখক মহিলাবিনীতা, গুণমুগ্ধা, স্নেহধন্যা, প্রণতা, সেবিকা, প্রীতিধন্যা, প্রীতিস্নিগ্ধা ইত্যাদি।
প্রাপক অনাত্মীয়া সম্মানিত লোক, লেখক ছেলেবিণিত, নিবেদক, বিনয়াবনত, ভবদীয় ইত্যাদি।
প্রাপক অনাত্মীয়া সম্মানিত লোক, লেখক ছেলেবিনীতা, নিবেদীকা, ভবদীয়া, ইত্যাদি।
প্রাপক প্রিয়ভাজন বা বন্ধু, লেখক পুরুষপ্রীতিধন্য, প্রীতিমুগ্ধ, আপনারই, তোমারই ইত্যাদি।
প্রাপক প্রিয়ভাজন বা বন্ধু, লেখক মহিলাপ্রীতিধন্যা, প্রীতিমুগ্ধা, আপনারই, তোমারই ইত্যাদি।
প্রাপক বয়সে ছোট শুভার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী, আশীর্বাদক/আশীর্বাদিকা, ইত্যাদি

৪. চিঠির বক্তব্য বা বিষয়ঃ এ অংশের চিঠির মূল কথা লেখা হয়। এতে থাকে প্রাক্‌-ভাষণ বা ভূমিকা ও প্রত্রসার ।

৫. লেখকের স্বাক্ষর ও বিদায় সম্ভাষনঃ চিঠির বক্তব্যের নিচে ডান দিকে উপযুক্ত বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে লেখকের স্বাক্ষর করতে হয়।

৬. শিরোনামঃ চিঠির খামের উপরে প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা লিখতে হয়। প্রেরকের ঠিকানা বাম পাশে ও প্রাপকের ঠিকানা ডান পাশের লিখতে হয়।

নিচে একটি নমুনা দেওয়া হল।—

ইয়া রব/ঔঁ

কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫

তারিখঃ ০২/০৪/২০১৮

প্রিয় নাজমুল,

আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা রইল। গতকাল তোমার চিঠি পেয়েছি। তুমি জানতে চেয়েছো আমার পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন হয়েছে। তার জবাবেই এই চিঠি।

পরীক্ষার জন্য আমার প্রস্তুতি খুব ভালো। আমি পাঠ্য বই খুব ভালো করে পরেছি। পাশাপাশি সহায়ক বই ও চর্চা করেছি…

চাচা চাচিকে আমার সালাম জানাবে। ভালো থেকো।

 ইতি

তোমার প্রিয় বন্ধু

সরল

Private Letter

ধন্যবাদ, কষ্ট করে পড়ার জন্য। উপকৃত হলে অবশ্যই জানাবেন। আজকের মত বিদায়।
আল্লহা হাফিজ।

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)