গুগলের ২১ কথা

0
62

গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর ছিল গুগলের ২১ তম জন্মবার্ষিকী। বিশ্বের বৃহত্তম ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান শুক্রবার বিশেষ ডুডল তৈরি করে জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছে। ডুডলটি তৈরি করা হয় সিআরটি মনিটরের কম্পিউটার দিয়ে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৯৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখটি। সিআরটি মনিটরের যুগে ওই দিনই জন্ম হয়েছিল গুগলের। কম্পিউটার বিজ্ঞানের দুই শিক্ষার্থী ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিনের প্রকল্প হিসেবে শুরু করেছিল এ সার্চ ইঞ্জিন। এখন সারা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন ও ইন্টারনেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে গুগল।

১. প্রথমটিতে হয়তো বিস্মিত হওয়ার তেমন কিছু নেই। গুগল হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভিজিটেড ওয়েবসাইট, অর্থাৎ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই এই ওয়েবসাইটটিতে অন্তত একবার ঘুরে গেছেন। এমনকি বিং সার্চ ইঞ্জিনে সবচেয়ে বেশি অনুসন্ধান করা হয় গুগলকে।

২. গুগল শুরু করেছিলেন দুজন কলেজছাত্র। তাঁদের নাম ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন। তাঁরা চেয়েছিলেন এমন একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে, যার মাধ্যমে অন্য ওয়েবপেজগুলোর একটা তুলনামূলক তালিকা করা যাবে। এর ভিত্তি হবে অন্য ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে কতগুলো তাদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে ।

৩. গুগল নামটি আসলে এসেছে গাণিতিক হিসাবের গোগল (googol) ভুল করে লেখার মাধ্যমে, যার মানে হলো ১ এর পর ১০০টি শূন্য। এ নিয়ে এখন গল্প প্রচলিত আছে যে, একজন প্রকৌশলী বা ছাত্র আসল নামের বদলে এই ভুল বানানটি লিখেছিলেন। সেই ভুল নামই পুরো দুনিয়ার সামনে চলে আসে। কেন এই নাম বেছে নিয়েছিলেন ল্যারি আর সের্গেই? তাদের ওয়েবসাইট যে বিপুল পরিমাণ উপাত্ত ঘাঁটাঘাঁটি, অনুসন্ধান করবে, সেটা এই নাম দিয়ে বোঝাতে চেয়েছিলেন তারা।

৪. প্রথম গুগল ডুডল অর্থাৎ গুগলের হোম পেজে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা দিনের স্মারক হিসেবে যে ছবি ব্যবহৃত হয়, তা তৈরি করা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, বার্নিং ম্যান নামের একটি উৎসব উদযাপনের জন্য। গুগলের প্রতিষ্ঠাতারা ভেবেছিলেন, এর মাধ্যমে তাঁরা জানিয়ে দেবেন যে কেন তাঁরা অফিসে অনুপস্থিত।

৫. গুগলের সবচেয়ে স্মরণীয় ডুডলগুলোর অন্যতম হচ্ছে চাঁদে পানির আবিষ্কার এবং জন লেননের ৭০তম জন্মদিন উদযাপনের জন্য। জন লেননের ডুডলটি আবার ছিল প্রথম ভিডিও ডুডল।

৬. প্রথম গুগল সার্ভার রাখা হয়েছিল লেগো দিয়ে তৈরি একটি কাস্টম কেসে।

৭. গুগলের হেডকোয়ার্টার পরিচিত ‘গুগলপ্লেক্স’ নামে এবং এটি অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে।

৮. গুগলপ্লেক্সে টি-রেক্স জাতীয় ডাইনোসরের একটি বিশাল মূর্তি আছে, যার ওপর প্রায়ই অসংখ্য প্লাস্টিকের তৈরি গোলাপি ফ্ল্যামিঙ্গো বসে থাকতে দেখা যায়। গুজব রয়েছে যে এটা হচ্ছে কর্মচারীদের প্রতি এক সতর্কবার্তা, যেন তাঁরা কখনো গুগলকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে না দেন।

৯. গুগলের হেডকোয়ার্টারটি বিশাল এবং এর ভেতরে অনেক সবুজ জায়গা আছে। এখানে ঘাস কাটার জন্য লন-মোয়ার মেশিন ব্যবহার করা হয় না। এ জন্য গুগল বাইরে থেকে ছাগল ভাড়া করে নিয়ে আসে।

১০. গুগল হচ্ছে প্রথম বড় প্রযুক্তি কোম্পানি, যারা তাদের কর্মচারীদের বিনা মূল্যে খাবার পরিবেশন করে। তা ছাড়া কর্মচারীদের তাঁদের পোষা কুকুর অফিসে নিয়ে আসতে দেওয়া হয়।

১১. ২০০১ সালে চালু করা হয় গুগল ইমেজ সার্চ, যার অনুপ্রেরণা ছিল ২০০০ সালের গ্র্যামি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে জেনিফার লোপেজের পরা সবুজ পোশাক। এটি গুগলের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চে পরিণত হয়েছিল।

১২. গুগলের নিজস্ব ই–মেইল সেবা জি–মেইলের কথা ঘোষণা করা হয় ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল বা এপ্রিল ফুলস ডে-তে। অনেকেই ভেবেছিলেন যে এটা আসলে একটা রসিকতা।

১৩. গুগলকে একটি ক্রিয়াপদ হিসেবে (‘গুগল করা’ অর্থে) প্রথম অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ২০০৬ সালে। মিরিয়াম-ওয়েবস্টার অভিধান লিখেছিল, গুগল করা মানে হচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব থেকে কোনো তথ্য অনুসন্ধান করার জন্য গুগল সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করা’।

১৪. ইউটিউব গুগল পরিবারের সদস্য হয় ২০০৬ সালে। দেড় শ কোটি ডলারের বেশি দামে ইউটিউবকে কিনে নেয় গুগল। এখন ইউটিউবের মাসিক ব্যবহারকারী প্রায় ২০০ কোটি। প্রতি মিনিটে ইউটিউবে আপলোড হয় ৪০০ ঘণ্টার ভিডিও।

১৫. গুগলের একজন ইঞ্জিনিয়ার ২০০৯ সালে একবার ইন্টারনেট ব্যবস্থা ‘ধসিয়ে দিয়েছিলেন’ । তিনি দুর্ঘটনাবশত গুগলের ব্লকড ওয়েবসাইটের রেজিস্ট্রিতে ফরোয়ার্ড স্ল্যাশ (‘/’) চিহ্নটি যোগ করে ফেলেছিলেন। যেহেতু প্রায় প্রতিটি ওয়েবসাইটেই ‘/’ চিহ্নটি আছে, তাই সে সময় অনলাইনে কোনো ওয়েবসাইটেই ঢোকা যাচ্ছিল না।

১৬. গুগল সার্চে ১৫ শতাংশ অনুসন্ধানই হচ্ছে একেবারে নতুন, যা আগে কখনো সার্চ করা হয়নি।

১৭. গুগল ২০১৮ সালের এপ্রিলে পরিণত হয় প্রথম কোম্পানিতে, যারা শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করছে। এর অর্থ হচ্ছে তারা প্রতি এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করার সঙ্গে সঙ্গে এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় করছে।

১৮. গুগলের আসলে ৬টি জন্মদিন আছে। কিন্তু তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে শুধু ২৭ সেপ্টেম্বরকেই তারা জন্মদিন হিসেবে পালন করবে।

১৯. গুগলের হাতে নানা রকম কূটকৌশল আছে। যেমন আপনি যদি এস্কিউ (askew) শব্দটি ইংরেজিতে সার্চ করেন, তাহলে দেখবেন পুরো পেজই একদিকে কাত হয়ে গেছে।

২০. অ্যাপোলো–১১তে চড়ে চাঁদে মানুষ পাঠাতে যতটুকু কম্পিউটিং ক্ষমতা ব্যবহৃত হয়েছিল, এখন মাত্র একটি গুগল সার্চে প্রায় সেই পরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতা কাজে লাগানো হয়।

২১. গুগল এখন শুধু একটি সার্চইঞ্জিন নয়, ভবিষ্যতে এখানে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্ট্রিমিং-ভিত্তিক গেম খেলার ব্যবস্থা, এমনকি চালকবিহীন গাড়ি।

ধন্যবাদ, itdoctor24.com এর সাথেই থাকুন।

পোস্টটি প্রয়োজনীয় হলে শেয়ার করুন।

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)