ফেসঅ্যাপ- যার দখলে ফেসবুকের নিউজফিড!

0
403

হা হা হা…

আমাদের স্কুলে একজন খুব গম্ভীর মেজাজী স্যার ছিলেন। স্যারের একটা ইউনিক গুণ ছিল। তিনি চব্বিশ ঘন্টা মুখ ভার করে রাখতে পারতেন। এমন যে আমাদের প্রায়ই তাকে দেখে মনে হতো উনি বুঝি একটুও হাসতে জানেন না! আমার এক বন্ধু বলতো, ‘দোস্ত যদি এই স্যার কোনোদিন হাসে ধইরা নিবি সূর্য আজকে পশ্চিম দিক থেকে উঠসে!’

ফেসবুকে সেদিন দেখলাম কেউ একজন স্যারের একটা ছবি ছেড়েছে। ছবির মধ্যে তিনি হাসছেন, তার চেয়ে অলৌকিক ব্যাপার দাঁত বের করে হাসছেন। ব্যাপার কী! সূর্য তো পশ্চিম দিকে উঠার কথা না, ওটা তো কথার কথা। তাহলে আসল কথা কি? আসল কথা হচ্ছে ফেসঅ্যাপ নামে নতুন একটি অ্যাপস বের হয়েছে। যেটা মনমরা চেহারার ছবিতেও হাসি ফুটাতে পারে!

ছোটবেলায় আমার পাশের বাড়ির এক ছেলেকে দেখতাম ঠোটে লিপস্টিক লাগিয়ে ঘুরতো। মাঝে মধ্যে চুড়িও পড়তো। মেয়েদের মতো করে সাজতে খুব পছন্দ করতো ও। এখন অবশ্য ওসব কথা স্মরণ করিয়ে দিলেই ভীষণ লজ্জা পায়। এই যুগে যদি কারো সাধ জাগে যে মেয়ে হলে দেখতে কেমন লাগতো নিজেকে, সেটাও জানা যাচ্ছে এই ফেসঅ্যাপের মাধ্যমে! নিন্দুকেরা অবশ্য টিপ্পনী কাটছেন, সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত উপায়ে লিঙ্গ পরিবর্তন করা যাচ্ছে!

ফেসঅ্যাপ কিন্তু দারুণ কাজেও দিচ্ছে। একটা উদাহরণ দেই। সময় যতই বাড়ছে একান্নবর্তী পরিবারগুলো ভেঙ্গে দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। আমরা আধুনিক হচ্ছে বলে সেকেলে বয়স্ক বাবা মা’দের আর পছন্দ হচ্ছে না। তাই তাদের পাঠিয়ে দিচ্ছি বৃদ্ধাশ্রমে। তাছাড়া এমনিতেও যারা বয়সে বড় তাদের প্রতি কেন যেন সম্মান দেখানোর ব্যাপারগুলো দিন দিন কমে যাচ্ছে। এক ছোট বোন বললো, তার মেজাজ খারাপ। জিজ্ঞেস করলাম, “সমস্যা কি?”

সে বললো, “আরেহ দাদু রাত বিরাতে ডাকাডাকি করে। তার জন্য লাইট জালিয়ে রাখতে হয়। ঘুমাতে পারি না। বুড়া মানুষ এত যন্ত্রণা দিতে পারে!” আমি তখনই তার একটা সুন্দর ছবিকে ফেসঅ্যাপের মাধ্যমে বুড়ো বানিয়ে দিলাম। এখন ছবিতে দেখা যাচ্ছে সে একজন থুড়থুড়ে বুড়ি। আমি তাকে ছবিটা দিয়ে বললাম, একদিন তোমারও এভাবে বয়স বেড়ে যাবে। সেদিন তোমাকে নিয়ে যখন কেউ বলবে এই বুড়িটা খুব জ্বালায় তখন আজকের দিনের কথাগুলো স্মরণ করবে!

ভীষণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই ফেসঅ্যাপ। এর ফিল্টার ব্যবহার করে নিজের বিপরীতধর্মী উপস্থাপন করা যাচ্ছে বলেই অ্যাপসটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে মনে করেন নির্মাতারা। মূলত এটি রাশিয়ার সেন্ট-পিটার্সবার্গের একটি ল্যাবে তৈরি করা হয়। অ্যাপসটির নির্মাতা ও সিইও জারোস্লাভ গনস্যারভ বলেন, “আমরা একটি নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করেছি। যেখানে আমরা নিউরাল নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে ছবিকে মডিফাই করি।”

ফেসঅ্যাপের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ছবিকে বাস্তবযোগ্য উপায়ে পরিবর্তন করা হয় এখানে। অন্যান্য অ্যাপসে ছবি মডিফাইয়ের পর সেটা আর আসল ছবির মতো থাকে না। কিন্তু নির্মাতার দাবি ফেসঅ্যাপে ফিল্টার ব্যবহার করার পরও ছবিটিকে খুব রিয়েলিস্টিক মনে হয়। তবে একে পুরোপুরি নিখুঁত ধরা যাবে না। অনেকেরই ছবিতে অ্যাপসটির ফিল্টার ব্যবহার করার পর অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। চলুন কয়েকজন সেলিব্রেটির ছবি উপর ফেসঅ্যাপ ব্যবহার করে কী ফলাফল পাওয়া গিয়েছে-

ফেসবুক সিইও মার্ক জাকারবার্গ
সঙ্গীত তারকা বিয়ন্সে নোয়েলস
টুইটার সিইও জ্যাক ডোরসি
স্ন্যাপচ্যাট সিইও ইভান স্নিজেল
অভিনেতা ডোয়াইন জনসন, দ্য রক

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)