আয়না নিয়ে যত রহস্য !

0
1136

আপনি বাথরুমে গেলেন, হাত মুখ ধুলেন, তারপর নিশ্চয়ই বেসিনের আয়নাটার দিকে তাকাবেন। কেমন হবে যদি দেখা যায় আয়নায় যেই মুখটি দেখা যাচ্ছে তা আপনার না, অন্য কারো ধরেন বীভৎস একটা মুখ, যা আপনি আগে কখনো দেখেন নি!

আয়না নিয়ে অনেক রহস্যময় ঘটনা আছে, একবার এক ছেলে মুখ ধুতে ওয়াসরুমে গেলো। মুখ ধোয়া শেষে সে আয়নার দিকে তাকাল, হঠাত দেখতে পেলো তার মুখের একপাশ ঠিক আছে, কিন্তু অন্য পাশটা কঙ্কাল হয়ে গেছে। সে ভাবল হয়তো চোখের ভুল, তাই সে আবারো মুখ ধুয়ে আয়নার দিকে তাকাল কিন্তু এইবার সে অন্য জিনিস দেখল। দেখল, এক মহিলা আয়নার ভেতর থেকে অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। মহিলার চোখের মণি নেই, চুল কপালের দুই পাশ দিয়ে ঝুলে রয়েছে। মুখে বসন্তের দাগ। ছেলেটা ভয় পেয়ে গেলো এবং আবার মুখ ধুলো, এরপর আয়নার দিকে তাকাল। এবার ছেলেটা কাউকেই দেখতে পেলো না, এমনকি নিজেকেও না শুধু তার পিছনের সাদা দেয়ালটা দেখা যাচ্ছে।

ghostছেলেটা সেন্সলেস হয়ে পড়ে যায়।

হাজার হাজার বছর ধরেই আয়না নিয়ে মানুষ অনেক ভীতিকর অভিজ্ঞতা অনুভব করে আসছে, নানান গল্পও শোনা যায় এই নিয়ে।  অনেকে বিশ্বাস করেন যে আয়না মৃত মানুষের আত্মাকে ধরে রাখে, কেউ যদি মারা যায় এবং সেই ঘরে যদি কোন আয়না থাকে তবে সেই আয়না সেই লাশের আত্মাটাকে ধরে রাখে। তাই অনেক জায়গায় কেউ মারা গেলে সাথে সাথে সেই রুমে কোন আয়না থাকলেও তা সরিয়ে ফেলা হয়। বাইবেলে বলা আছে, আয়না শয়তান তৈরি করেছে, যাতে আয়নার মধ্যে আত্মা ঢুকে গিয়ে আর স্রষ্টার কাছে ফিরে যেতে না পারে। আয়না তে কি আসলেই আত্মা ঢুকতে পারে? অনেকে আবার এই বিষয়ে ব্যাখ্যাও দাড় করিয়ে ফেলেন। ক্যামেরার ফিল্ম তৈরিতে হেলাইড নামের জিনিস ব্যাবহার করা হয়, যার ফলে ক্যামেরা যেকোনো ছবি ধরে রাখতে পারে। আয়না তৈরিতেও সিলভার হেলাইড ব্যাবহার করা হয়। এখন তা যদি কোনও মানুষের ছবি ধরে রাখতে পারে তবে এটা কি বলা যায় না যে সেই আয়নায় এমন কারো ছবি দেখা যেতেই পারে যে হয়তো এখন বেঁচে নেই, কিন্তু কোনও একসময় সেই আয়নায় মুখ দেখেছে? বলা যায় না? যেতেই পারে!

ghostপশ্চিমা বিশ্বে আয়না নিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত কিংবা কুখ্যাত মিথটি হচ্ছে “ব্লাডি মেরি”

পৌরাণিক কাহিনীতে বলা আছে যদি কোনো পূর্নিমা অথবা অমাবস্যা রাতে,একা, ঘরের সব বাতি নিভিয়ে আয়নার সামনে যেয়ে কেউ তিনবার”ব্লাডি মেরি”বলে ডাকে,  তাহলে আয়নায় দেখা যাবে এক প্রতিহিংসাপরায়ণ আত্মার !
কাহিনী তে বলা আছে ,যে ব্যক্তি আত্মাটিকে ডেকে আনবে তার সাথে ঘটতে পারে অনেক রকম অসংজ্ঞায়িত ঘটনা। তার মৃত্যুও ঘটতে পারে , অথবা, তার দুই চোখ উঠিয়ে আলাদা করে ফেলা হতে পারে, তারা পাগল হয়ে যেতে পারে, অথবা সেই আত্মার সাথে আয়নার জগতের বাসিন্দা হতে পারে।

ghostব্লাডি মেরির আসল উৎপত্তি নিয়ে ধারনা সকলেরই কম, প্রাচীন কাল থেকেই পশ্চিমে এই মিথ চলে আসছে। এই গল্প সম্পর্কে যতটুকু জানা যায় তা হলো  মেরি তার একমাত্র ছেলের অপহরণ এবং খুন হবার পর পাগল হয়ে যায় এবং আয়নায় তার ছেলের অস্তিত্ব আছে বলে চিন্তা শুরু করে। সে কালো জাদু শুরু করে এবং কালো জাদুর সাহায্যে আয়নার জগতে

প্রবেশ করে কিন্তু সেখানে সেই তার হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে খুঁজে পায় না, এবং আয়নার জগত থেকে ফিরে আসার রাস্তাও হারিয়ে ফেলে, এরপর থেকে তাকে কেউ ডাকলে সে ফিরে আসার উপায় খুঁজে, প্রতিশোধ এর জন্য।

আমেরিকার আরেকটা জায়গায় “কারদিনি গ্রিন” নামের একজনের কথা শোনা যায়, এই লোকের নামও নাকি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পাচবার নিলে তাকে দেখা যায়। তার এক হাত কাঁটা, সেই হাতে নাকি একটা স্টিলের স্পাইক লাগানো!

ghostএক স্টুডেন্ট একবার এসাইনমেন্ট করার কাজে ঐ জায়গাটায় গিয়েছিলো যেখানে সেই গ্রিন নামক ব্যাক্তির কথা প্রচলিত ছিল। সেই এলাকার সবাই গ্রিন নামক ব্যাক্তির আত্মা নিয়ে এতো বেশি আতঙ্কে ছিল যে তারা কেউ ঐ স্টুডেন্টকে কোনও তথ্য দিতে পারছিল না ভয়ে, স্টুডেন্টটা পরে নিজে একা সেই এলাকায় গিয়ে ঐ কারদিনি গ্রিন নামক ব্যাক্তির ব্যাপারে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলো। পরের দিন ঐ স্টুডেন্টের লাশ উদ্ধার করা হয়, তার সাথে কি ঘটেছিলো তা কেউ
জানে না।

বলা হয়ে থাকে যে, কারো ঘরে যদি পুরনো আমলের বিশাল বড় কোন আয়না থেকে থাকে তবে সেসব আয়নাতে কিছু না কিছু থাকে। আত্মা যখন একটা রুমে ঢুকে আয়নাকে সে তার বের হবার পথ ভেবে ভুল করে। তখন সে আয়নার ভেতর ঢুকে ঠিকই কিন্তু বের হতে পারে না। তাকেই হয়তো লোকেরা দেখে।

একবার ভাবুন তো, আজকে একটু পর হয়তো আপনি বাথরুমে যাবেন, ওখানে বা তার আসে পাশে নিশ্চয়ই একটা আয়না আছে। তাকিয়ে দেখুন তো!

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)