‘দুনিয়ার সব মশা কি শুধু আমাকেই কামড়ায়!’ – এবার কারন টা জানা যাক…

0
456

কারন গুল…

‘আচ্ছা তোদের কি মশা কামড়াচ্ছে না? মশা কি খালি আমাকেই দেখে নাকি?’- আড্ডায় বসলে এই ধরনের কথা কেউ না কেউ বলেই থাকে। এই কথাগুলো কিন্তু একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা তেমনটাই দাবী করছেন। মশা কাদের বেশি কামড়ায়, সেই প্রসঙ্গে তারা বলছেন কয়েকটা কারণের কথা। কারণগুলো হচ্ছে-

১. প্রেগন্যান্সি এবং স্থূলত্ব

গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে বিপাক ক্রিয়ার হার বাড়ে। কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের হার বাড়ে। আর এই কার্বন ডাই অক্সাইড আকৃষ্ট করে মশাদের। তাই গর্ভবতী নারীদের মশা বেশি কামড়ায়। বিষয়টা বিচিত্র মনে হলেও এই মুহুর্তে খুব বিপদের কথা। কারন জিকা ভাইরাস। মানুষের শরীরে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক সঠিক ভাবে গড়ে উঠতে পারেনা। জন্ম নেয় বিকলাঙ্গ শিশু। এছাড়া আকারে বড়, সোজা কথা মোটাসোটা মানুষের শরীর থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের হার বেশি। তাতেই আকৃষ্ট হয় মশা। মশার ম্যাক্সিলারি পাল্প নামের প্রত্যঙ্গ দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড ডিটেকশনের কাজটুকু করে। মোটামুটি ১৬০ ফিট দূর থেকে মশা এই কাজটা সুন্দর ভাবে করে ফেলতে পারে। এজন্যে দেখা যায়, বড়দের চাইতে বাচ্চাদের মশা কামড়ায় কম।

২. ব্যায়াম

খুব করে ব্যায়াম করে কোথাও বসলে দেখা যায় মশা কামড়ায় বেশি। এর কারন ল্যাকটিক এসিড। ব্যায়ামের পরিশ্রমের কারনে দেখা যায় শরীরে ল্যাকটিক এসিড তৈরী হয়। এই বস্তু মশাদের খুব পছন্দের বস্তু।

৩. মদ্যপান

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞগণ জানাচ্ছেন মদ্যপ লোকজন মশার খুব প্রিয়। কারনটা হচ্ছে এলকোহল তাপমাত্রা বাড়ায়। মশার ভিশন হচ্ছে ইনফ্রারেড ভিশন। অপেক্ষাকৃত বেশি তাপমাত্রার লোক তার চোখে পড়ে আগে। তাই তাদের মশা কামড়ায় বেশি।

৪. ব্লাড গ্রুপ ‘ও’

গবেষণায় দেখা গেছে ‘ও’ ব্লাড গ্রুপের লোকজনকে মশা কামড়ায় বেশি। শতকরা হার খুবই বেশি। ৮৩ ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে মশা ‘ও’ গ্রুপের রক্তের মানুষদের বেশি কামড়াচ্ছে। আর ‘এ’ গ্রুপের রক্তের মানুষদের মশা কামড়ায় সবচেয়ে কম।

৫. ত্বকের ব্যাকটেরিয়া

মানুষের ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে। ২০১১ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে কিছু নির্দিষ্ট জাতের ব্যাকটেরিয়া মশাদের আকৃষ্ট করে। এবং এরা পায়ের পাতা, গোড়ালি এলাকায় বেশি থাকে। এ কারণে দেখা যায় পায়ের পাতা, পায়ে মশা কামড়ায় বেশি।

৬. গায়ের কাপড়ের রঙ

গাঢ় রঙের প্রতি মশাদের বিশেষ দুর্বলতা আছে। কালো বা গাঢ় নীল রঙের কাপড় গায়ে চাপিয়ে খোলা মাঠে সন্ধ্যা বেলায় বসলে, মশার কামড়ের চোটে মোরব্বা হয়ে যেতে হয়।

এগুলোকে কারন বলে চালিয়ে দিলেও আসলে মশার রক্ত চুষে নেবার কারন একটাই। বংশ বৃদ্ধি। কারন হিসেবে যথেষ্টই মানবিক দিক। অবশ্য বেশি যেহেতু কোন কিছুই ভালো না, তাই মশাদের জন্য অন্তত মানবিক হবার কোন কারন নেই। না হওয়াটাই মঙ্গল।

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)