‘ডাক্তারদের ফেইসবুক’ Don’t miss it…

0
404
তো কোন এক শুক্কুরবারে ঘরে বসে কাশতে কাশতে আমি ভাবছিলাম যে আমার কপালটা এতো ফুটা কেন? ফাগুনের প্রথম আরাম বাতাস যেমন শরীর-মনে ধাক্কা দেয়, ঠিক তেমন করেই এই ভাবনাটাও আমার মতন বলদদেবিদের* মাঝে মধ্যে ধাক্কা দিয়ে যায়। সেইবার ধাক্কা খেয়ে মনে হলো আরেকটু হলে উল্টায়ে পড়েই যাচ্ছিলাম। ডাক্তার রিপোর্ট দেখে এসেমেস করে বললেন, ‘মা, তোমার কেবল কপালে না, হৃদয়েও একটা ফুটা আছে।’ দেঁতো হাসি নাহ মানে, এমন করে তো আর কেউ বলে না, আমি বলললাম আর কী, লং ইস্টুরি- শর্ট।
হার্টে ফুটা, লাংস- এ প্রেশার বেড়ে, ব্রংকাইটিস হয়ে টয়ে কপালের ফুটা গেলাম ভুলে! খোঁজ খোঁজ – কে আছে ভালো ডাক্তার, এই ডাক্তার, সেই ডাক্তার! প্রতিবার ডাক্তার দেখাই, একবার ইকো করে, একবার ইসিজি করে, হায় রে খোদা, সবার এক কথা, “এই মেয়ে! এই জিনিস এতো দিন পর কেম্নে ধরা পড়লো? “ তুমি কি তোমার দুঃখ-কষ্ট সব চেপে রাখো নাকি নিজের মধ্যে?” ইত্যাদি ইত্যাদি।
দুঃখ-কষ্টের মাম্মিকে ড্যাডি! ভয়ে আমি এম্নেই আধমরা, ঘুমাতে পারি না, শ্বাস-কষ্টে আর হঠাৎ হঠাৎ পালস রেট বেড়ে ৯০-১০০ হয়ে গিয়ে আমার অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি! রবীন্দ্রনাথ উনার গানে ‘বুকের কাঁপন’ বলতে কী বুঝাতে চেয়েছিলেন সেটা আমি প্রতি মুহূর্তেই অনুভব করলাম সেই কয় মাস। মন খারাপ যাই হোক, সারাদিন মনে হয় পাস্তা খাবো, এটা খাবো, সেটা খাবো, যা যা আছে সব খেয়ে নেই, বাঁচি-মরি ঠিক নাই। কিন্তু ডাক্তার বলে দিয়েছেন, যতদিন এর চিকিৎসা না করাচ্ছি ততদিন যেন পেট ভরে বেশি না খাই, প্রেসার পড়ে হার্টে, লাংসে। এইদিকে মাত্র নতুন চাকরিতে যোগ দিলাম, তার এক সপ্তাহ পরেই এই জিনিস আবিষ্কৃত হলো। চাকরীদাতা ম্যা’ম বড়ই ভালো, ডেকে বললেন, তারানা, আপনি একদম চিন্তা করবেন না। সুস্থ হয়ে আসেন, আপনার চাকরী বহাল তবিয়তে থাকবে। এই সবকিছু মিলিয়ে এমন বিদখুটে অবস্থা বিরাজ করছিল যে সার্জারী কোথায়, কার কাছে এবং সব চাইতে বড় ব্যাপার কোন পন্থা অনুসরণ করে করবো সেই সিদ্ধান্তেই পৌঁছুতে পারছিলাম না।
এই ভ্যানভ্যানগুলা করার কোন ইচ্ছাই ছিল না, কিন্তু যেই বিষয় নিয়ে লিখতে চাচ্ছি সে জন্য উপরের তিন প্যারার ভ্যানভ্যান শোনাতে হলো – ইন্ট্রুডাক্টরী কথা বলে পাঠককে ক্যাক করে চেপে ধরা আর কী!দেঁতো হাসি তো যাই হোক, কয়েকজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে অবশেষে এইটুক বুঝলাম হয় সরাসরি কাটাকুটির সার্জারি করতে হবে আর নাহলে ডিভাইস বসিয়ে ছিদ্র বন্ধ করে দিতে হবে, যেটার উপর পরে হার্ট-টিস্যুর একটা আস্তরণ পড়ে যাবে। দুইটার দুই রকম জটিলতা এবং এক এক ডাক্তার এক এক পরামর্শ দেয়। কেউ বললেন ইন্ডিয়া গিয়ে ডাইরেক্ট সার্জারি করাতে, কেউ বললো ইন্ডিয়ান ডাক্তাররা ঢাকায় এলে তাদের কাছে ডিভাইস এর সার্জারী করাতে, কেউ বললেন সিঙ্গাপুরে চলে যেতে আর কেউ বললেন ঢাকাতেই ডিভাইসের সার্জারী করতে। ইন্ডিয়া আর সিঙ্গাপুরে রিপোর্টসহ মেইল করলাম, কেউ নির্দিষ্ট করে কিছু বললো না। সিঙ্গাপুরে বললো দুইটাই করা যেতে পারে, কিন্তু সেইখানে গিয়ে আরো কিছু টেস্ট করে তারপর তারা ফাইনাল ডিসিশন দিতে হবে, সাথে এই অ্যাত্তো বড় একটা টাকার অংক লিখে দিলো –সম্ভাব্য খরচের হিসাববাবদ। সিঙ্গাপুর বাদ। ইন্ডিয়ার এক সনামধন্য হাসপাতালের যেই ব্যাক্তির সাথে কথা বললাম, দুই তিনটা মেইল এর রিপ্লাই পেয়েই বুঝলাম – ইহা একজন ফাউল। এছাড়াও সাথে কে যাবেন, দৌড়াদৌড়ি কে করবে, আরেক দেশে গিয়ে সার্জারীর অনান্য আনুষঙ্গিক অসুবিধার কথা বিচার করে ইন্ডিয়াও বাদ। কিন্তু আসলেই সেই মুহূর্তে কোন পন্থা অবলম্বন করা সবচাইতে ভালো হয় – সেই ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছিলাম না একেবারেই। বিষণ্ণতায় কিংবা বিরক্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে কেবল দিন গুনছিলাম আর উদ্বিগ্নতার ভার বহন করছিলাম –এমন সময় এক নেপালী বন্ধুর মারফত জানতে পারলাম তার এক জার্মান ফ্রেন্ড আছে, যে আমার রিপোর্টগুলো জার্মানীর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা চেক করিয়ে মতামত জানাতে পারবে – তার একটা অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে।
এইভাবেই ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড ডক্টরস’ এর ইয়াঙ্কো ব্র্যান্ড এর সাথে আমার পরিচয়। মেইল চালাচালির পর বার্লিনের একজন ‘এ এস ডি’ বিশেষজ্ঞের মতামত জানিয়ে আমাকে কিছুদিন পর মেইল করলো ইয়াঙ্কো।

“….I have looked through the documents. There is no doubt that the defect must be closed. A TEE is required when it comes to deciding closure with catheter technology vs operation. If the patient wants to undergo surgery anyway, the TEE prior to surgery is unnecessary. When a catheter intervention is planned, a TEE must be done to be sure that the edge of the defect enough tissue is available, in order to anchor a closure system.”

টি.ই.ই. (ট্রান্স ইসোফেগাল ইকোকার্ডিওগ্রাম) এর কথা আগে কেউ বলে নি। শুধু মাত্র ইউনাইটেড হসপিটালের একজন দক্ষ সার্জন বলেছেন। তবে উনি ‘এ এস ডি’ সার্জারী খুব একটা করেন না। তাছাড়া অন্য কোন ডাক্তার নিজে ইকো করেন না, কিংবা টি.ই.ই. করেন না। সৃষ্টিকর্তার বিশেষ রহমতে শেষমেষ এমন একজন ডাক্তার পাওয়া গেলো, এবং সৌভাগ্যক্রমে দেখা গেলো উনি আমার স্কুল ফ্রেন্ড এর বাবা! শুরু থেকেই আঙ্কেল নিজের মেয়ের মতনই আমাকে ট্রিট করলেন। উনি নিজেই ইকো করেন, নিজেই টি.ই.ই. করেন, হৃদরোগ ইন্সটিটিউট এর প্রফেসর। ডাক্তার হিসেবে তো অসাধারণই, মানুষ হিসেবে তার চাইতেও বেশি অসাধারণ। পুরোটা সময় উনি আমাকে যেই পরিমাণ মেন্টাল সাপোর্ট দিয়েছেন আর কাউন্সিলিং করেছেন সেই জন্য চিরকৃতজ্ঞ।
উনি এবং ঐ জার্মান এক্সপার্ট একই চিকিৎসার কথা বললেন। টি.ই.ই. করাটা রোগী এবং ডাক্তার উভয়ের জন্যই রিক্সি এবং ভয়ের ব্যাপার। টি.ই.ই. করার আগে রোগীর থেকে কন্সেন্ট নিয়ে নিতে হয় ‘ইহার মৃত্যুর জন কেহ দায়ী নয়’। এক টেস্ট করতে গিয়ে এমন অনুমতিপত্র দিতে বুকে কাঁপন তো লাগেই। তা লাগবেই তো, গলার মধ্য দিয়ে এত্তো বড় একটা নল ঢুকিয়ে হার্টের ছবি তুলবে – একেই মনে হয় বলে একেবারে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া টেস্ট। খাইছে ভাগ্যবান আমি – অত্যন্ত যত্নের সাথে আঙ্কেল যেই পুলসিরাত পার করালেন আমাকে। এরপর আরো নানান ঘটনা আছে যা এই লেখার সাথে প্রাসঙ্গিক না বলে আর লম্বা করছি না।
আমার সার্জারী হলো আরো এক মাস পর। সার্জারীর পর যখন রিকোভার করছি তখন একদিন ইয়াঙ্কোর থেকে মেইল পেলাম। তেমন কিছু না, সৌজন্য বজায় রাখতে একটা মেইল দিয়ে জানতে চাইলো আমি সুস্থ আছি নাকি। খুব ভালো লাগলো। তার দরকার ছিল না এতো খোঁজ নেওয়ার। উত্তরে আমি নিজে থেকেই তার অর্গানাইজেশনের ব্যাপারে জানতে চাইলাম, কোন ভাবে ভলান্টারি কাজে সাহায্য করতে পারি নাকি, যেহেতু আমি নিজেও পাবলিক হেলথ নিয়ে কাজ করছি। সে বেশ খুশি হয়ে গেল। এরপর কিছু দিন মেইল চালাচালি আর স্কাইপে মিটিং করে বোঝার চেষ্টা করলাম তাদের কাজটা। এক বাক্যে বললে মূল ব্যাপারটা হলো একটা নেটওয়ার্কের মধ্যে পৃথিবীর সব ডাক্তারকে বেঁধে ফেলা –মানে একই নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসা।
তা উদ্দেশ্যটা কী? উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীব্যাপি হেলথকেয়ার সিস্টেমকে আরো উন্নত করা, কোন কঠিন অথবা দুর্বোদ্ধ রোগ নির্ণয় কিংবা চিকিৎসা এর ক্ষেত্রে এই প্রসঙ্গে পারদর্শী কারো সাহায্য পাওয়া, তাও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আরো সহজভাবে বলতে গেলে –একটা গ্লোবাল নেটওয়ার্কে সব ডাক্তারদের একটা যোগাযোগের প্লাটফর্ম তৈরী করে দেওয়া।
কীভাবে কাজ করে? কীভাবে কাজ করে বোঝার জন্য নিচের ছবিটা সাহায্য করতে পারে। আমার কেইসটার সাথে এটার মূল পার্থক্য হচ্ছে আমি নিজেই (রোগী নিজেই) ওদের সাথে যোগাযোগ করি, কিন্তু মূল উদ্দেশ্য ছিল ডাক্তাররাই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করবে। যেহেতু আমি আমার বন্ধুর রেফেরেন্সে যোগাযোগ করি তাই তারা আমাকে সাহায্য করে। তাদের সাথে কথা বলার সময় যেই ব্যাপারটা বার বার উঠে আসছিল যে তারা চাচ্ছে ডাক্তাররাই বিভিন্ন জটিল কেইস নিয়ে যোগাযোগ করবে। যাই হোক, ছবিতে যা দেখানো হচ্ছে তা হলো কোন ডাক্তার যখন এমন কোন জটিল কেইস পেলেন যেটার সঠিক চিকিৎসা নিয়ে দ্বিমত আছে কিংবা অজানা, সেইক্ষেত্রে তিনি ওয়ানওয়াল্ডডক্টরস এর ওয়েবসাইটে গিয়ে একটা প্রোফাইল অ্যাকাউন্ট খুলে রোগের বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে লিখতে পারবেন কিংবা রিপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছবিসহ আপলোড করতে পারবেন। ওয়ানওয়াল্ডডক্টরস থেকে তখন খোঁজা হবে পৃথিবীব্যাপি এই বিষয়ে এক্সপার্ট কে কে আছেন। সেইখানে তারা যোগাযোগ করে যেই ফলাফল পাবে সেটা সেই প্রথম ডাক্তার এর সাথে শেয়ার করবে। আপাতত তারা পারসোনাল লেভেলের জানা শোনা এক্সপার্ট এর থেকে সাহায্য নিচ্ছে। আর যেহেতু পুরো ব্যাপারটা এখনো প্রক্রিয়াধীন, তাই প্রোফাইল খুলে একাউন্ট বানিয়ে একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করার মতন অবস্থায় তাদের ওয়েবসাইট এখনো যেতে পারে নি। তাই আপাতত কেউ চাইলে নিজের মেইল অ্যাড্রেস থেকে মেইল করতে পারেন এই ঠিকানায় –

[email protected]

এমন কী চাইলে তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে একটা ঢু মেরেও আসতে পারেন।

https://oneworlddoctors.org/

ইয়াঙ্কোদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে জানতে চাইলো বাংলাদেশের হেলথসিস্টেম কেমন করে কাজ করে; কেমন করে তারা এদেশের ডাক্তারদের সাথে একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে ইত্যাদি। কথায় কথায় নানান প্রসংগ উঠে এসেছে।
উন্নত দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কিংবা চিকিৎসার ধরনের সাথে আমাদের বিস্তর ফারাক আছে। ভালো-খারাপ দুইটাই দুই দেশে আছে। আমার প্রশ্ন ছিল আমি কোন ডাক্তারকে এই পর্যন্ত বলতে শুনি নি যে এই রোগীর সমস্যা ধরতে পারি নি, সেক্ষেত্রে কেন কোন ডাক্তার তাদের এই ওয়েবসাইটে গিয়ে ঢু মারবে? আমিই বা কেমন করে কাউকে রাজি করাতে পারবো এই প্ল্যাটফর্মটার সুবিধা নিতে? ইয়াঙ্কো সেই প্রশ্নের অবশ্য সরাসরি কোন উত্তর দেয় নি। বরং আমিই নিজের মতন করে ধরে নিয়েছি যে বড় বড় চিকিৎসকদের হয়তো রাজি করানো যাবে না, গেলেও কেমন করে সম্ভব জানি না। কিন্তু যারা নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক এবং এই লেখাটা পড়ছেন তারা হয়তো ব্যাপারটার লং-টার্ম উপযোগিতা নিয়ে একবার হলেও ভাববেন এবং এর সুবিধা নিতে চাইবেন। সেই কথা চিন্তা করে ইয়াঙ্কোকে বললাম যে আমি তাহলে এইটা নিয়ে একটা কিছু লিখে আমার ডাক্তার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি। তারা এই উদ্যোগটি কে কেমন ভাবে নেয়, কিংবা তারা এটার লিমিটেশন নিয়ে কী কী ব্যাপার তুলে ধরে যেটাও জানা দরকার। সে খুবই খুশি হয় সেই প্রস্তাবে, আর সেই হেতুই এই বিশাল ব্লগব্লগানি।
আমাদের দেশে ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার ব্যাপারটা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক উভয় দিক থেকেই দেখতে চাই আমি। সত্যিই কি ডাক্তার ভুল চিকিৎসা দিচ্ছে, নাকি যেখানে রোগ নির্ণয় করা হচ্ছে, সেই সব ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকেই ভুল রিপোর্ট আসছে?– এইসব নিয়ে তর্ক করতে গেলে গোটা দিন পার হয়ে যাবে। আমার নিজেরই বড় বোন ভুল চিকিৎসার এবং তারও আগে ভুল রোগ নির্ণয়ের খেসারত আজও দিয়ে যাচ্ছে। সেই তাকেও জার্মানী গিয়ে গিয়ে সার্জারী করতে হচ্ছে এখন, তাও সম্পূর্ণ ফলাফল পাচ্ছে না। সবই শুধু মাত্র সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় করতে না পারার কারণে। আমার বোনের রোগটা সে নিজেই ফেইসবুকের একটা গ্রুপ থেকে প্রথম জানতে পারে, আর সেটার জন্য তার ৩ বছর সময় লেগে যায় শুধু বের করতে রোগটা কী! ততদিনে রোগ তার তৃতীয় ধাপে পোঁছে গেছে। আমার আপুর অসুখটা একটা জেনেটিক ডিসওর্ডার, লিপোডেমা, অস্বাভাবিক ফ্যাট জমে যাওয়ার রোগ, যেটার চিকিৎসা – lymph sparing liposuction, জার্মানির একটা ক্লিনিকে ছাড়া আর তেমন কোথাও হয় না। এখন সম্ভবত যেই সার্জনের থেকে ট্রেনিং নিয়ে অস্ট্রেলিয়াতেও এর চিকিৎসা শুরু হয়েছে। সব জায়গাতেই অসম্ভব কস্টলি এই চিকিৎসা। নিম্নোক্ত লিঙ্কে আরো বিস্তারিত জানা যাবে এই রোগ সম্পর্কে।

https://www.facebook.com/LipoedemaladiesUK/?fref=ts

https://www.lipoedemaladies.com/

মাঝের ৩ বছরে আমার বোন অসংখ্য ডাক্তার দেখিয়েছে, ডায়েট করেছে, এবং কসমেটিক লাইপোসাকশন নামের ভুল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে গিয়ে গ্যাংরিন হয়ে পা হারাতে বসেছিল। লাভের মধ্যে ক্ষতি হলো তার লিম্ফোএডেমা (malfunction of lymphatic drainage system) এবং ভ্যারিকাস ভেইন (enlarged veins causing aching pain) হয়ে এখন মূল চিকিৎসাই ঠিক মতন কাজ করছে না। তো এতো কথার বলার একটাই কারণ, ইয়াঙ্কোর এই উদ্যোগটা আমার কাছে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় একটা কাজ বলে মনে হয়েছে। যদি ওয়ানওয়ার্ল্ডডক্টরস এর মতন একটা প্ল্যাটফর্ম সত্যিই থাকে আর বিশ্বব্যাপী চিকিৎসকরা সত্যিই যদি এটার সঠিক ব্যবহার করতে পারে তাহলে হয়তো ক্ষেত্রবিশেষে অজানা অনেক রোগ অনেক সহজে নির্ণয় করা যেতেও পারে ভবিষ্যতে।
ইয়াঙ্কো এক পর্যায়ে বললো যে ব্যাপারটা শুধু এমন না যে বাংলাদেশের ডাক্তাররা খালি সমস্যা নিয়ে পোস্ট দিবে। একাউন্ট করার পর পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের চিকিৎসকরাই দুই পক্ষ হয়ে সুবিধা নিতে ও দিতে পারবে। শুধু চিকিৎসাই না, বেটার প্রসেডিওর, নিউ থিওরি, কস্ট-ইফেক্টিভনেসসহ চিকিৎসার সাথে জড়িত প্রমূখ ব্যাপার স্যাপার নিয়েই সাহায্য পাওয়া ও সাহায্য দেওয়া যেতে পারে বলে আমার মনে হয়। প্ল্যাটফর্মটা তৈরি করতে তাদের ফান্ড দরকার, আর সেই জন্য দরকার কিছু প্রমাণ যে এইটা আসলেই সুফল দিচ্ছে। সেই জন্য তারা চাচ্ছে যদি কেউ সত্যিই এটার থেকে সুবিধা নেয় নিজ উদ্যোগে তবে তাদের কাজটাও এক ধাপ এগিয়ে আসে।
আমার এই লেখাটার একটাই উদেশ্য, এটা পড়ে যদি কোন ডাক্তারের মনে হয় ব্যাপারটা আসলেই কাজে দেবে, কিংবা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কোন চ্যালেঞ্জিং কেইসের মুখোমুখি হয়ে যদি মনে করে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কোন সাহায্য আসলেই পাওয়া যেতে পারে, তবে যেন তারা এটা ব্যবহার করে – একবার হলেও। আমি জানি না শেষ পর্যন্ত এমন কিছু হবে কিনা এটা, কিন্তু ভালো কোন উদ্যোগে সাহায্য করতে তো দোষের কিছু নাই, তাই না?

এথিকাল ব্যাপার স্যাপার নিয়ে আমার প্রশ্ন ছিল, ইয়াঙ্কো একটা ম্যানুয়াল এর মতন বানিয়ে দিল কাঁচা হাতের। হুবুহু কপি পেস্ট করে দিলাম এইখানে।

This manual will guide through the process of uploading your case to the network.How to use OneWorldDoctors.org?

Step 1

Please remove all details from the uploaded files that could be used to recognize the patient’s identity.
For example:
•Names, Identification Numbers, Faces, Tattoos and the following:
•Full face photographic images or comparable images
•All geographical subdivisions smaller than a State
•All elements for dates (except year) directly related to an individual, including birth date, admission date, patient encounter date, discharge date, date of death
•Phone numbers
•Electronic mail addresses
•Social security or social insurance numbers, or equivalent
•Medical record numbers
•Health card numbers, health plan beneficiary numbers, or Health Insurance Account
•Account numbers
•Certificate/license numbers
•Device identifiers and serial numbers
•Web Universal Resource Locators (URLs)
•Internet Protocol (IP) address numbers
•Biometric identifiers, including finger and voice prints
•Any other unique identifying number, characteristic, or code
Example

Step 2

The uploaded files should be combined with additional information if necessary. If possible, the requesting doctor should ask a precise question which could be answered by the medical specialist.

Example

What would be the treatment of choice?
a. Correcting it through setting a metal device by catheter or
b. Correcting it by surgery.

Step 3

Please add as much information as needed (depending on the case and anamnesis) to the anonymized case-report and send it to

[email protected]Example
…Patient has been coughing for 1 month and had difficulties in breathing; 2 weeks ago diagnosed to have a congenital birth defect, ASD (atrial Septal Defect, a 23 mm hole in the upper 2 chambers of heart). Patient is 30 years old, unmarried, female and 50 KG in weight. Please find all current reports in the attachments.

ওরা আমার কেইসটাকেই উদাহরণ হিসেবে দিয়েছে, আমার অনুমতিও নিয়েছে ব্যবহারের আগে।

শেষ করার আগে নতুন করে বলার আর কিছু নেই। লেখাটা পড়ার পর সত্যিই কোন ডাক্তারের ইচ্ছা হলে সাহায্য নিতে পারেন, একটা ভালো উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নিতে পারেন। এইটুকুই। ধৈর্য ধরে পুরো লেখাটা পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

সম্পূর্ণ লেখা শেষ করে নিজের সম্পর্কে উপলব্ধিঃ

-বাংলা লেখা ভুলে গেছি। একটা লাইন লিখতে অনেক বেশি সময় লাগছে। খালি ইংরেজি শব্দ চলে আসছে লেখার মাঝে, যেটা নিয়ে মন খারাপ লাগছে। মন খারাপ
-বৈশাখী মেলার পর সম্ভবত এইটাই সবচাইতে বড় মেলা, বানান ভুলের মেলা। অনেক বানান ভুল আছে, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে অনুরোধ করছি।
-প্রায় ২ মাসেরও আগে লেখাটা শুরু করি, প্রচন্ড কাজের চাপে এবং নানান যোগাযোগ রক্ষা করতে গিয়ে এটা শেষ করার সময়ই বের করতে পারি নি।
-ভলান্টিয়ার হিসেবে নিম্নমানের হলেও আজকে শেষ করতে পেরে শান্তি লাগছে খুব। দেঁতো হাসি*বলদদেবি = বলদ মার্কা কাজ করতে করতে যে নিজেকে দেবি পর্যায়ে নিয়ে গেছে। খাইছে
ছবি:

13/02/2009 - 2:14অপরাহ্ন

13/02/2009 - 2:14অপরাহ্ন
don’t forgate to share…

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)