ফ্রিল্যান্সিং কি ? কিভাবে করবেন ফ্রিল্যান্সিং ?

0
414
businessman showing a signboard with the word freelance written in it

আসুন আগে জেনে নেই ফ্রিল্যান্সিং কি ?

বাঁধাধরা কোন নিয়ম মেনে চাকরি না করে নিজের স্বাধীনতা অনুযায়ী কাজ করাই ফ্রিল্যান্স । একজন ফ্রিল্যান্সার এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করতে পারেন । আবার কেউ ইচ্ছে করলে চাকরি বা পড়ালেখার পাশাপাশিও কাজ করতে পারেন । মোট কথা হচ্ছে কোন প্রতিষ্ঠানে বাঁধা চাকরি না করে বা চাকরি করার পাশাপাশি নিজের পছন্দ অনুযায়ী সময়ে শ্রম দিয়ে অর্থ উপার্জনের একটি সহজ (অনেকে বলে সহজ) উপায় হল ফ্রিল্যান্সিং । ফ্রিল্যান্সিং আপনি একাকি বা কোন গ্রুপের এর সাথে যুক্ত হয়েও করতে পারেন ।

কিভাবে করবেন ফ্রিল্যান্সিং ?

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কিছু রিকোয়ারমেন্ট লাগে । যেমনঃ

  • আপনার একটি পিসি থাকতে হবে ।
  • ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে ।
  • ইংরেজীর উপর ভালো দক্ষতা হবে ।
  • আর আসল কথা হচ্ছে ইচ্ছা আর ধোর্য্য থাকতে হবে তাহলে উপরের ৩ টার একটাও না থাকলে বন্ধুর পিসি বা মোবাইল ফোন দিয়েও ফ্রিল্যন্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেন !

ফ্রিল্যান্সিং কাদের জন্য ?

why freelancing
এখন ভাবতেছেন কিভাবে করবেন এই ফ্রিল্যান্সিং ?

আপনার যদি শেখার আগ্রহ না থাকে , ধোর্য্য না থাকে , বন্ধু-বান্ধবীর সাথে আড্ডায় মেতে থাকতে চান বা খুব কম সময়ে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করতে চান তাহলে কষ্ট করে আর পড়ার দরকার নাই , ফ্রিল্যান্সিং আপনাকে দিয়ে হবে না । ফ্রিল্যান্সিং একমাত্র তাদের জন্য যাদের প্রবল ইচ্ছা শক্তি আর মনোবল আছে ।

যেসব মার্কেটপ্লেস গুলো হতে পারে আপওয়ার্কের পরিপূরক

ফ্রিল্যান্সিং করতে কি কি যোগ্যতার প্রয়োজন ?

আপনি অফলাইনেই কাজ করুন আর অনলাইনেই কাজ করুন না কেন আপনি কাজ না জানলে কিন্তু আপনাকে কেউ কাজ দিবে না । তবে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনার আ্যাকডেমিক যোগ্যতার কোন প্রয়োজন নেই যা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে কোন বিশেষ কাজে দক্ষতা । সেটা হতে পারে -কনটেন্ট রাইটার, প্রোগ্রামার, ওয়েব ডেভলপার,ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ভিডিও এডিটিং,পরামর্শদাতা,ওয়েব ডিজাইনার, থ্রিডি ডিজাইনার, গ্রাফিক্স ডিজাইনার এবং এরকম অসংখ্য কাজের মধ্যে যে কোন একটাতে যেটা আপনার ভাল লাগে । মনে রাখবেন আপনি কোন কাজে দক্ষ না হলে প্রথমে কোনভাবে কাজ পেয়ে গেলেও বেশিদিন টিকে থাকতে পারবেন না । কারণ সেখানে আপনাকে শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের অনেক দেশের মানুষের সাথে প্রতিযোগিতা করেই কাজ পেতে হবে । আর একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে গেলে আপনার যে আরেকটি যোগ্যতা লাগবে সেটা হল ইংরেজীতে ভাল দক্ষতা । কারণ আপনার ক্লায়েন্টরা থাকবে বিদেশী তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার্থে এবং ক্লায়েন্ট কি চায় তা বুঝার জন্য ইংরেজীতে ভাল দক্ষতা অপরিহার্য ।

Qualification

মার্কেট প্লেসে জয়েন করার আগে নিজেকে যোগ্য করে তুলুন । অযোগ্য আর মূর্খ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য অনেক মার্কেটপ্লেসই বাংলাদেশীদের খারাপ চোখে দেখে । মনে রাখবেন আপনার যোগ্যতা আপনার দেশ আপনার জাতিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরবে ।

ফ্রিল্যান্সারদের সুবিধা

১ । একজন ফ্রিল্যান্সার কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আবদ্ধ না হয়েই সময়কে কাজে লাগিয়ে দ্রুত কোন প্রজেক্টভিত্তিক কাজ সফলভাবে সমাধান করতে পারেন ।
২ । প্রজেক্টভিত্তিক কাজের মাধ্যমে অল্প সময়ে বেশি প্রজেক্টের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে আয় বৃদ্ধি করতে পারেন ।
৩ । একজন ফ্রিল্যান্সার তার যোগ্যতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একইসাথে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজেকে সফলভাবে জড়িত রাখতে সক্ষম হন ।
৪ । নিজের কাজের পরিবেশ এবং সময়কে নিজের পছন্দমতো নির্ধারণ করে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন ।
৫ । এককভাবে ফ্রিল্যান্স করার পাশাপাশি যে কেউ দলীয়ভাবেও কাজ করতে পারেন, যার ফলশ্রুতিতে কাজের মান আরও উন্নত হয় এবং গতি বৃদ্ধি পায় ।

ফ্রিল্যান্সারের অসুবিধা

১ । কোন কারনে প্রজেক্টের কাজ সম্পূর্ন করতে না পারলে বা ব্যর্থ হলে তার দায়ভার কর্তৃপক্ষ নেবে না সেক্ষেত্র অসম্পূর্ন কাজের জন্য ফ্রিল্যান্সারকে তার পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হতে হবে এবং প্রোফাইল এ খারাপ রিপোর্ট ও পড়তে পারে ।
২ ।ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে প্রথমে ভাল কাজ পেতে হলে অনেক ধৈর্য্য ধারণ করতে হয় ।
৩। কাজের মাঝখানে বড় ধরনের কোন ভুল হলে তার সমাধান কখোনই কর্তৃপক্ষ বা অন্য কেউ দিতে বাধ্য থাকিবে না ।

সফলতার জন্য ফ্রিল্যান্সারদের করণীয়

যেকোন কাজেই সাফল্যের জন্য প্রয়োজন কাজের প্রতি একাগ্রতা ,নিষ্ঠা ,মনোযোগ এবং পরিশ্রম অর্থাৎ সর্বোপরি দক্ষভাবে কাজটি সম্পাদন করা, ফ্রিল্যান্সিং এ ও এর ব্যতিক্রম না ।
ফ্রিল্যান্সিং এ সফলতার জন্য যা বিশেষভাবে লক্ষণীয় সেগুলো হল :

১ । ফ্রিল্যান্সাররা স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন , ফলে তাদের কাজের মান এবং আন্তরিকতার ক্ষেত্রে অবশ্যই যথেষ্ট সৎ থাকতে হবে ।
২ । ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কাজটি নেবার পূর্বে ফ্রিল্যান্সারকে অবশ্যই কাজটি কিভাবে করতে হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে এবং জমা দেওয়ার ডেডলাইন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে ।
৩ । প্রথমদিকে তুলনামূলক কম পারিশ্রমিকেই বিড করা উচিৎ এবং অভিগ্বতা বাড়ার পাশাপাশি নিজের পারিশ্রমিক ও বাড়ানো যেতে পারে ।
৪ । পরিশ্রম করার মনমানসিকতা এবং ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা থাকতে হবে ।
৫ । কোন কাজ সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা না থাকলে এবং কাজটি করতে পারব কিনা এ নিয়ে সংশয় থাকলে সেই কাজটি নেয়া উচিৎ না ।

সম্মানী / পারিশ্রমিক

সাধারণত চুক্তিভিত্তিতে ফ্রিল্যান্সারদের সম্মানী বা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়ে থাকে । একজন ফ্রিল্যান্সার ঘন্টা হিসেবে, দিন হিসেবে , মাস হিসেবে বা সম্পূর্ণ প্রজেক্ট হিসেবে কাজ করে তার ওপর পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন । আপনি কতটা দক্ষ এবং অভিগ্ব এবং কত সময কাজ করতে পারবেন তার উপর পারিশ্রমিক নির্ভর করে ।

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)