বোবা ধরা ” এ সম্পর্কে বিজ্ঞান কি বলে এবং এর প্রতিকার কি ?

0
839

আমরা অনেকেই কোনও কোনও সময় ঘুমের মধ্যে এ ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাই । তাই, অভিজ্ঞতাটা খুব পরিচিত হলেও এই সমস্যার নাম অনেকের কাছে অপরিচিত । মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম স্লিপ প্যারালাইসিস ।

অনেক সময়ই যথারীতি ঘুম থেকে জেগে মনে হয়, কেউ একজন অন্ধকার ঘরে আপনাকে ধরে রেখেছে । আপনি মাথাটা সামান্য ঘুরিয়ে দেখতে চাইছেন, কিন্তু পারছেন না । চিৎকার করছেন অথচ কেউ শুনতে পাচ্ছে না । পালানোর চেষ্টা করছেন অথচ কেউ হয়তো আপনার বুকের ওপর চেপে বসে আছে । আসলে, ঘুমিয়ে পড়ার পরে সাময়িকভাবে নড়া এবং কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলার অভিজ্ঞতা যদি আপনার হয়ে থাকে তাহলে আপনি জানেন, কি ভয়াবহ স্লিপ প্যারালাইসিস । আর আঞ্চলিক বা স্থানীয়ভাবে একে অনেকেই ‘বোবা ধরা’ বলে।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে শতকরা ২০ থেকে ৬০ ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ঘটনা এটি । মনে করা হচ্ছে, ঘুমের সময় পরিবর্তন, পরিমাণের তুলনায় কম ঘুমানো এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে এমন হয়ে থাকে । বোবায় কিভাবে ধরে – বিশেষজ্ঞদের মতে বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস তেমন কিছু না এটি একটি ইন্দ্রিয় ঘটিত ব্যাপার।আমরা যখন ঘুমের ঘোরে কোন কারনে এপাশ থেকে ওপাশে ঘুরতে যাই, ভয়ঙ্কর কোন স্বপ্ন দেখে আঁৎকে উঠি, আমাদের ঘুম ভেঙে গেলেও আমাদের মস্তিষ্ক সজাগ হয় না,তখন শরীরের কোন অংশ নড়াতে পারি না। আর ঠিক তখনই এই ঘটনাটা ঘটে মানে Sleep Paralysis হতে পারে। যাইহোক, এতে ভয় পাবার কোনই কারন নাই। এটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। অযথা ভয় পেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ঘুমের মধ্যেই স্ট্রোক করে পরপারে যাওয়া সহজ হতে পারে।
কেন Sleep Paralysis হয়ঃ
১. অপর্যাপ্ত ঘুম: যারা গভীর রাত জেগে কাজ করে, টিভি দেখে তাদের ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত ঘুম পরিলক্ষিত হয় এবং Sleep Paralysis হতে পারে।
২. অত্যাধিক মানসিক চাপ: যারা বিভিন্ন কারনে অত্যাধিক মানসিক চাপে থাকেন তাদের Sleep Paralysis হতে পারে।
৩. অত্যাধিক ক্লান্ত শরীর: যারা সারাদিন অত্যাধিক শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করেন তাদের ক্ষেত্রে Sleep Paralysis হতে পারে।
৪. স্বপ্ন: ঘুমের মধ্যে ভয়ঙ্কর কোন স্বপ্ন দেখলে যেমন সাপে কামড়ানোর জন্য দৌড়াচ্ছে, কেউ খুন করার জন্য দৌড়াচ্ছে, উচু কোন ভবন থেকে পড়ে যাচ্ছে তখন Sleep Paralysis হতে পারে।
৫. তাছাড়া দুশ্চিন্তা, বিষন্নতা, খিচুনী রোগ হলেও Sleep Paralysis হতে পারে।
সমাধানঃ
১. কমপক্ষে ৭/৮ ঘন্টা ঘুমানো।
২. গভীর ঘুম হবার জন্য রাতে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করে ঘুমানোর ১০ মিনিট আগে এক গ্লাস গরম দুধ খাওয়া।
৩. নিজেকে অযথা টেনশন থেকে মুক্ত রাখা
৪. টাইম ম্যানেজমেন্ট এ দক্ষ হওয়া যাতে রাত জেগে কাজ করতে না হয় আর বিনোদনের জন্য রাত জেগে টিভি দেখার অভ্যাস ত্যাগ করা।
৫. ঘুমানোর আগে কিছু দোয়া বা প্রাথনা করে নেওয়া।

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)