ডিএসএলআর ক্রয়ের পূর্বে ৫টি বিষয় লক্ষ্য রাখবেন

0
1067

আপনি ছবি তুলতে ভালবাসেন? যেকোনো অনুষ্ঠানে আপনার আইফোন, ফিল্ম ক্যামেরা কিংবা পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরা ব্যবহার করে হাজারো ছবি তুলেন? আপনি হয়তো ইন্টারনেট ব্রাউজ করছেন, এবং সেটা সম্ভবত ফ্লিকার ফেসবুক কিংবা ডেভিয়ান আর্টই হবে যেখানে আপনি খুব উজ্জ্বল ও পারফেক্ট ফটোগ্রাফ খুব খেয়াল করছেন।

আবার হয়তো ইমেজ এর এক্সিফ ডাটা দেখে খুজছেন কোন ক্যামেরা বডি দিয়ে এটি তোলা। এরপরই হয়তো ক্লাসিফাইড সাইট কিংবা ফেসবুক পেইজ এ খুজছেন ঐ ক্যামেরার দাম কত? হয়তো চিন্তাও করছেন নিজে কোনটি কিনবেন এবং এমন চমৎকার ছবি তুলবেন যা দেখে মানুষ ও বলবে বাহ!! কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো আসলেই কি আপনার ক্যামেরা প্রয়োজন?

ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে, ৮-১০ বছরের ছবি তোলার পর সাম্প্রতিক সময়েই ডিএসএলআর নিয়েছি। লক্ষনীয় যে অনেকেই ফটোগ্রাফি করতে চায় ডিএসএলআর দিয়ে, কিন্তু আসলেই কি সেটার প্রয়োজন?

ডিএসএলআর কিনে পকেট খালি করার আগে জানতে হবে এমন ৫টি বিষয় যা ডি এস এল আর ক্রয়ের পূর্বে অবশ্যই লক্ষ্য রাখা উচিত।

 

১. ফটোগ্রাফির ধরনঃ

ডি এস এল আর ক্রয়ের পূর্বে সবার প্রথমে লক্ষ্য রাখতে হবে আপনি কি ধরণের/কাজে ছবি তুলবেন। হতে পারে আপনি শুধু বিয়ের কিংবা পারিবারিক কোন অনুষ্ঠানের অথবা অন্য যেকোনো কাজে ছবি তুলতে চান। আপনি কি ধরণের ডিএসএলআর ক্রয় করবেন তা নির্ভর করে আপনার ছবি তোলার ধরণের ওপর।

উদাহরন হিসেবে বলা যায়-

# ধরুন আপনি শুধু বিয়ের প্রোগ্রামে ছবি তুলবেন। সেক্ষেত্রে ছবি তোলার পাশাপাশি ভিডিও করার ও প্রয়োজন হয়। তখন বাড়তি একটি ভিডিও ক্যামেরা বহন করা ঝামেলাদায়ক। এক্ষেত্রে যদি আপনি এমন একটি ডিএসএলআর ক্রয় করেন যাতে ছবি তোলার পাশাপাশি ভিডিওও করা যায় তাহলে বাড়তি ভিডিও ক্যামেরার ঝামেলা সহজে এড়ানো যায়। ক্যানন ইওএস ৫ডি এমকেআইআই এবং নিকন অল্টারনেটিভ ডি৭০০ এ ক্যামেরাগুলো দিয়ে ছবি তোলার পাশাপাশি ভিডিওও করা যায়।

# ডিএসএলআর ক্রয়ের পূর্বে আরেকটি বিবেচ্য বিষয় হল ক্যামেরার ওজন। কারণ ক্যামেরার সাথে অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসও বহন করতে হয়। তাই আপনি যখন বিয়ে বাড়িতে কিংবা কোন ভ্রমণে যেয়ে একা একা ছবি তুলতে যাবেন তখন বেশি ওজনের ক্যামেরা ও তার আনুষঙ্গিক জিনিস বহন আপনার অসুবিধার কারণ হতে পারে। তবে যদি আনুষঙ্গিক জিনিসগুলো বহন করার জন্য কোন সহায়তাকারী থাকে তাহলে কোন সমস্যা নেই।

# যদি আপনি সংবাদকর্মী হন তবে আপনাকে চলাফেরার মাধ্যমে অনেক বেশি গতিশীল থাকতে হয়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই হালকা ধরণের ক্যামেরার প্রয়োজন হয়।

# আপনি যদি প্রতিদিন আপনার প্রতিটি ছোট ছোট কাজের (ফ্যামিলি প্রোগ্রাম, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া) হাজারো ছবি তুলে রাখতে পছন্দ করেন; সেক্ষেত্রে ডি এস এল আর ক্রয় না করাই উত্তম। কারণ ডি এস এল আর অত্যন্ত মূল্যবান। তার চেয়ে এধরণের ছবি তোলার জন্য স্বল্পমূল্যের ও ভালমানের পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরা ব্যবহার করা ভাল।

 

 

২. প্রফেশনাল কাজে নাকি শখবশতঃ

আপনি একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার হলেই যে আপনার একটি ডিএসএলআর থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার হতে হলে সবার আগে প্রয়োজন ছবি তোলার জন্য হাতের সুদক্ষ পরিচালনা। অনেক প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারই ডিএসএলআর ব্যবহার করেননা। বরং তারা পছন্দ করেন ৩৫ মিলি ফিল্ম ক্যামেরা।

আর আপনি যদি এই প্রথম ক্যামেরা ব্যবহার করা শেখা শুরু করেন তাহলে অবশ্যই ডিএসএলআর ক্রয় করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সেক্ষেত্রে প্রথম ১-২ বছর পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরা ব্যবহার করাই ভাল। তারপর আলট্রা-জুম ক্যামেরা ব্যবহার করা উচিত। এরপর যদি মনে হয় যে আপনি ক্যামেরা ব্যবহারে পারদর্শী এবং সকল প্রকার প্রাথমিক দক্ষতাগুলো অর্জন করা হয়েছে সেক্ষেত্রে ডিএসএলআর ক্রয় করা যেতে পারে। আর যদি আপনি একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার হন তাহলে একটি ফুল-ফ্রেম সেন্সর ডিএসএলআর ক্রয় করতে পারেন।

 

 

৩. ব্যবহার ও যত্নঃ

ডিএসএলআরকে সাধারণ পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরার মতো শুধু ব্যবহার করলেই হয়না এর বিশেষ যত্নও নিতে হয়। প্রতিবার ছবি তোলার পূর্বে খেয়াল রাখতে হবে ক্যামেরার লেন্স ও সেন্সর পরিস্কার আছে কিনা এবং তাতে কোন ধূলিকণা লেগে আছে কিনা। একটি গাড়ির যত্ন নেওয়া ও একটি ডিএসএলআরের যত্ন নেওয়া প্রায় একই কথা। আপনি যত ভালভাবে নিয়মিত এর যত্ন নিবেন, এটি তত বেশি দিন ভাল থাকবে। নিয়মিত যত্ন না নিলে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয় যা ঠিক করতেও অনেক অর্থ ব্যয় হয়। তাই এর যত্ন নেওয়া আবশ্যক। ডিএসএলআরের যত্ন নেওয়ার জন্য দরকার একটি সেন্সর ক্লিনিং কিট এর। যা ব্যবহার করে সেন্সর, লেন্স, ভিউ ফাইন্ডার লেন্স প্রভৃতি পরিস্কার করা যায়। সেন্সর, লেন্স কিংবা ভিউ ফাইন্ডারে যদি কোন ধূলা পরে তাহলে তা সর্বশেষ তোলা ছবিতে ভেসে উঠবে। তৎক্ষণাৎ এই ধূলা পরিস্কার করে ফেলা উচিত। নতুবা দাগ পরে যেতে পারে। তাই কেনার পূর্বে এই বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত যে আপনি নিয়মিত এর যত্ন নিতে পারবেন কিনা।

 

 

৪. মূল্যঃ

ডি এস এল আর ক্রয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এর মূল্য। সবার প্রথমে আপনার বাজেটের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দেখতে হবে আপনার বাজেট অনুযায়ী আপনি কোন ধরণের ক্যামেরা, লেন্স ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিস ক্রয় করতে পারবেন। তারপর নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে (যেমন- ডিপিরিভিউস.কম) গিয়ে দেখতে হবে আপনার বাজেট অনুযায়ী কোন ক্যামেরাটি আপনি ক্রয় করতে পারবেন। এমনটা নয় যে আপনাকে আপনার বাজেট অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি দামের ক্যামেরাটিই কিনতে হবে। ক্যামেরার ধরণ ও লেন্সের প্রকৃতি এখানে মুখ্য বিষয়। যদি আপনার বাজেট কম থাকে যেমন- ৪০,০০০/- বা তার চেয়ে কম আর সাধারণ অনুষ্ঠানে আপনি ছবি তুলতে চান, তাহলে পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরা ক্রয় করাই উত্তম। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে ছবি তোলার জন্য আরেকটু অর্থ সঞ্চয় করে ডিএসএলআর কেনাই ভাল। তবে ডিএসএলআর কেনার পূর্বে এ কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে এটি ব্যবহার করা ও যত্ন নেওয়া দুটোই ব্যয়বহুল ব্যাপার। কারণ এখানে শুধু ক্যামেরার জন্য খরচ করতে হয়না বরং আনুষঙ্গিক জিনিস ও বিভিন্ন প্রকারের লেন্স (ওয়াইড-এঙ্গেল লেন্স, প্রাইম লেন্স) ক্রয় ও যত্নের পেছনে অনেক বাড়তি খরচ করতে হয়।

 

 

৫. ডি এস এল আরের জন্য সঞ্চয়ঃ

যদি আপনি চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে আপনি ডিএসএলআর ক্রয় করতে যাচ্ছেন তাহলে এর জন্য আলাদা ভাবে অর্থ সঞ্চয় করুণ।

# অর্থ সঞ্চয়ের উপায় হতে পারে আপনারই তোলা কিছু স্টক ইমেজ বিক্রি করা। স্টক ইমেজ হল এমন কিছু ছবি যাতে কোন বস্তুকে ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন এজেন্সি বা কোম্পানি তাদের পন্যের বিজ্ঞাপনেও এইসব ছবি ব্যবহার করে। যেমন- কারো ফোনে কথা বলার ছবি কিংবা কোন গহনার ছবি ইত্যাদি। এসব এজেন্সি বা কোম্পানির কাছে এই ধরণের ছবি বিক্রি করা যায়। অনেক শৌখিন ব্যক্তি এইসব ছবি দেয়ালেও ঝুলিয়ে রাখে তাখে তাদের কাছেও ছবি বিক্রি করা যায়।

# আরেকটি উপায় হতে পারে আপনার ক্যামেরার লেন্স কাউকে ভাড়া হিসেবে দেওয়া। যদিও এটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাপার।

# তাছাড়া বিভিন্ন বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে ছবি তুলে কিংবা বিভিন্ন প্রদর্শনীতে পোর্টেট বা ভাস্কর্যের ছবি তুলে অর্থ উপার্জন করা যায়।

Latest DSLR Camera

ডিএসএলআর কিনতে জানুন ১০টি সতর্কতা

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)