আপনি কী জানেন আপনার মোবাইল উপকারের পাশাপাশি আপনার ভয়ংকর ক্ষতি করছে ? যা রীতি মত মৃত্যুর কারণ !

1
1440

বর্তমানে আমরা মোবাইল ছাড়া অচল কিন্তু আমরা কি কেও একবার এর জন্যও ভাবি যে এই মোবাইল আমাদের ঠিক কতটা ক্ষতি করছে ? ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিশ্চিন্তে কথা বলে যায় মোবাইল এ।

আজকে আমি যে টিউনটা করতে যাচ্ছি সেটা একটা সতর্কতা মুলক টিউন।

বিপদ সমূহ

  • ১) বিজ্ঞানীদের মতে, একটি পরমানবিক চুল্লির যে বিপদ তার থেকে মোটেও কম নয় এই ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড এর ক্ষতি। যাদের করোটি যত পাতলা, তাদের মোবাইল এফেক্ট তত বেশি। ব্রেন টিউমার থেকে শুরু করে নার্ভাস সিস্টেম ব্রেকডাউন, হার্ট অ্যাটাক সব কিছুরই সম্ভবনা বেড়ে চলেছে।
  • ২) মোবাইল ফোন ব্যবহার এর ফলে আমাদের মস্তিস্কের একটা অংশ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। তার ফলে মস্তিষ্কের টিস্যু গুলি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মগজেও থাকে তার প্রতিক্রিয়া।
  • ৩) ঝড়ের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে সমূহ বিপদ দেখা যেতে পারে।
  • ৪) বুক পকেটে মোবাইল রাখলে হার্টের সমস্যা হবার সম্ভবনা বেশি থাকে।
  • ৫) ইয়ার ফোন ব্যবহার না করে, কানের গোড়ায় রেখে মোবাইল এ বেশি কথা বললে কানে কম শোনা এমনকি বধিরতার আশঙ্কা পর্যন্ত থাকতে পারে।
  • ৬) বন্ধ্যাত্ব বাড়ছে। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার করলে মুখে ক্যানসার বা মেলিগনানট টিউমার এর ঝুঁকি বাড়ে।
  • ৭) শিশুদের মস্তিস্কের কোষ নরম বলে তাদের মারত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বিজ্ঞানী হাইল্যান্ড দেখিয়েছেন, তড়িৎ চুম্বকীয় দূষণের কারনেই শিশুরা এপিলেপসি ও অ্যাজমায় ভুগছে।
  • ৮) লেফ সেলফড তথ্য-প্রমানের ভিত্তিতে সুদৃঢ় হয়ে যথেষ্ট জোরের সঙ্গে বলেছেন, সেলফোন এর প্রতিটা কল আমাদের মস্তিস্কের ক্ষতি করে। এমন কি প্যাসিভ স্মকারদের মত যে লোকটা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে না কিন্তু মোবাইল ব্যবহারকারির কাছে রয়েছে সেও ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে। ফ্রান্সে সান্তিনি আর সুইডেন এ সানডস্তরম আর মাইলড এর সমীক্ষার ফলাফল লেফ সেলফড এর বক্তব্য কে আরও সুদৃঢ় করে তোলে। এঁদের সমীক্ষা অনুযায়ী, সেলফোন ব্যবহারকারি, ২৫% পর্যন্ত বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছেন। যেমন, মাথাঘোরা, ক্লান্তি, স্মৃতি শক্তি হ্রাস, মাথা ঝিম ঝিম করা, ক্লান্তি প্রভৃতি।

তাহলে এখন কি করবেন ? মোবাইলটাকে কি জলে ছুঁড়ে ফেলে দিবেন ? নাকি কিছু নিয়ম মেনে দিব্যি মোবাইল ব্যবহার করবেন ?
আসলে দ্বিতীয়টাই সত্য। আমরা যদি কিছু নিয়ম মেনে মোবাইল ব্যবহার করি তাহলে আমরা অনেক রোগের হাত থেকে রক্ষা পাবো।

নিয়মাবলী

  • ১) মোবাইল ফোন এর স্পিকার অন করে কথা বলার চেষ্টা করুন যাতে আপনার মাথা মোবাইল থেকে দূরে থাকে। যদিও এটাও ক্ষতিকর কিন্তু ঠিক ততটা নয় মাথার সামনে মোবাইল ধরলে যতটা ক্ষতি হবার সম্ভবনা থাকে তার থেকে অনেক কম।

  • ২) সম্ভব হলে earbuds ইউজ করুন। এগুলো মুলত আপনার মাথাকে মোবাইল থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।

  • ৩) মোবাইলটাকে সারাদিন অন করে রেখে আপনার দেহের সাথে সংযুক্ত থাকতে দেবেন না। অথবা যদিও রাখেন তাহলে দেখবেন যেন মোবাইল এর অ্যান্টেনা কোনোভাবেই আপনার দিকে না থাকে (সাধারনত মোবাইল এর পেছনে থাকে)।

  • ৪) গাড়ি, ট্রেন, অথবা প্লেন এ মোবাইল এর ব্যবহার যতটা সম্ভব কম রাখুন। মোবাইল ফোন লোহা নির্মিত জায়গায় বেশি পাওয়ার ইউজ করে আর অনেক বেশি radiation ও ছড়ায়। এছারা গাড়ি বা ট্রেন এ মোবাইল ব্যবহার করলে অ্যাকসিডেনট হবারও ভয় থাকে।

  • ৫) যখন আপনি ঘরে থাকবেন তখন মোবাইল এর পরিবর্তে ল্যান্ডলাইন ব্যবহারের চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন কর্ডলেস ল্যান্ড ফোন গুলি কিন্তু মোবাইল থেকে কম radiation ছড়ায় না। তাই কর্ড যুক্ত ল্যান্ড ফোন ব্যবহার করুন।

  • ৬) আপনার মোবাইল এর জন্য একটা কাভার কিনুন যেটা ফোনের radiation ছড়ানোকে কিছুটা হলেও রোধ করবে।

  • ৭) এমন একটা ফোন ব্যবহার করুন যেটা কম radiation ছড়ায়। বর্তমানে মোবাইল ফোন কোম্পানি গুলো স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন হয়েছে, এবং তারা এমন ধরনের মোবাইল তৈরির চেষ্টা করছে যেগুলো কম radiation ছড়ায়। এখনো পর্যন্ত তৈরি মোবাইল গুলোর মধ্যে সবথেকে কম radiation ছড়ায় LG Quantum মোবাইলটা।

  • ৮) ভিটামিন C আর E সমৃদ্ধ খাবার খান যেগুলো আপনার দেহের কোষগুলোকে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে। লঙ্কা, পেয়ারা,  পেঁপে, কমলা লেবু, Strawberries প্রভৃতি খান এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন C আছে আর লাল লঙ্কা পাওডার, পাইন বাদাম, রান্না করা শাক প্রভৃতি খান এতে ভিটামিন E আছে।

  • ৯) রাত্রে যখন শোবেন তখন মোবাইল নিয়ে শোবেন না কারন রাত্রে মোবাইল আপনার দেহের সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে সংযুক্ত থাকে বলে আপনার দেহে এর প্রভাব অনেক বেশী পরতে পারে।

  • ১০) মোবাইল এর সিগন্যাল লক্ষ্য করুন। যখন কম থাকে তখন মোবাইল আরও বেশী radiation ছড়ায় তাই আগে সিগন্যাল পুরো আসতে দিন তারপর নাহয় ফোন করবেন।

  • ১১) মোবাইল এ কথা বলার থেকে ম্যাসেজে কথা বলুন, এতে অন্তত মোবাইলটা আপনার মাথার কাছ থেকে দূরে থাকবে ফলে ক্ষতি হবার সম্ভবনা কিছুটা হলেও কমবে।

যাই হোক ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এই কামনা করে বিদায় নিচ্ছি

1 COMMENT

Please comment Here (ভাল লাগলে কমেন্ট করুন)